
রাজশাহীর দুর্গাপুরে করলাচাষিরা এবার চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, মাঠভরা করলা, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম মিলছে না। হতাশ কৃষকেরা ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন, আবার কেউ বিক্রি না হওয়া করলা হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলছেন, প্রতি বিঘা জমিতে করলা চাষে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাজারে মাত্র আড়াই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এতে উৎপাদন খরচের এক-চতুর্থাংশ টাকাও ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে করলা লাগিয়েছিলাম। এখন বাজারে এক শ, দেড় শ বা দুই শ টাকা মণ দাম উঠছে। লোকসান গুনতে গুনতে আমাদের আর কোনো পুঁজি অবশিষ্ট নেই।’
গতকাল শুক্রবার উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বিপুল করলাসহ বিভিন্ন সবজি উঠেছে। কিন্তু পাইকাররা দাম বলছে না। ফলে কেনাবেচা একেবারে নেই। দাম না বলায় হাটের মধ্যে প্রায় ৩ মণ করলা পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছেন চাষি আশরাফুল। তিনি বলেন, দেড় বিঘার মতো জমিতে চাষ, নিড়ানি, সেচ আর সার-মাটি দিতে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা চলে গেছে। কিন্তু ৩৫টা পয়সাও ঘরে উঠাতে পারিনি। বাড়ি থেকে এনে যে খরচটা করেছি, সেটা একদম “ফি সাবিলিল্লাহ” হয়ে গেছে। বাজারে ১২০ টাকা মণ দর বলছে পাইকাররা। তাই রাগ ও ক্ষোভে নিজের সবজি নিজেই নষ্ট করে ফেলছি।’
কানপাড়া বাজারের কৃষক মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘এক কেজি টিএসপি সার কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে। আর এক মণ করলা বিক্রি করতে হচ্ছে দেড় শ টাকায় (৩-৪ টাকা কেজি)।
এতে সারেরই দাম উঠছে না। রাগে করলা ধরা তাজা গাছ কেটে দিয়েছি। আর সার-ওষুধও দেব না, গাছও রাখব না। চাষির দিকে তাকানোর কেউ নেই।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এ মৌসুমে উপজেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। প্রথম দিকে কৃষকেরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করে ভালো লাভ পেয়েছেন। তবে এখন দাম কিছুটা কমে গেছে।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা পারভীন লাবনী কৃষকদের উৎপাদিত সবজিসহ করলা ও গাছ কেটে ফেলে না দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘সবজির বাজার ওঠানামা করে। কৃষকেরা যাতে সঠিক মূল্য পান, সে জন্য আমরা কৃষি বিপণন বিভাগসহ উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করা যায়, দ্রুতই কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।’

একসময় ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছের নিরাপদ আবাস হিসেবে পরিচিত ছিল বরগুনার বলেশ্বর, পায়রা ও বিষখালী নদী। কিন্তু এখন নিয়ন্ত্রণহীন প্লাস্টিকদূষণের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত তিন নদ-নদী। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলো থেকে প্রতিদিন পলিথিন, থার্মোকল, কর্কশিটসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক...
৩ মিনিট আগে
টানা বর্ষণের জেরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁধের সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা নতুন করে পানিবন্দী হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালী নদী দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দে পুনঃখনন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও নদীর অধিকাংশ অংশে পানি নেই, কোথাও কোথাও এমন ঘন কচুরিপানা জন্মেছে যে পানির অস্তিত্বই চোখে পড়ে না।
১ ঘণ্টা আগে
১৯৮০ সালের তুমুল জনপ্রিয় শিশুতোষ বাংলা ছায়াছবি ‘ছুটির ঘণ্টা’র জনপ্রিয় একটি গান ‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’। একদল শিশু আর বিখ্যাত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচকে নিয়ে এই গানের দৃশ্যটির শুটিং হয়েছিল তখনকার ঝকঝকে নতুন এই পার্কে।
২ ঘণ্টা আগে