Ajker Patrika

ওমানে একই গাড়িতে ৪ ভাইয়ের মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে শায়িত হবেন তাঁরা

সবুর শুভ, চট্টগ্রাম    
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ২২: ১২
ওমানে একই গাড়িতে ৪ ভাইয়ের মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে শায়িত হবেন তাঁরা
পাশাপাশি কবর খোঁড়া হয়েছে ওমানে নিহত চার ভাইয়ের জন্য। ছবি: আজকের পত্রিকা

ওমানে একই গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার ভাইয়ের মরদেহ আগামীকাল বুধবার (২০ মে) সকালে দেশে পৌঁছাবে। চার ভাইকে একসঙ্গে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন । এই ঘটনায় রাঙ্গুনিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাঁদের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর বন্দরবাজার পাড়া এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ২টায় ওমান থেকে লাশবাহী বিমান ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সড়কপথে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নেওয়া হবে। আগামীকাল সকাল ৭টার দিকে মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের ছোট ভাই মো. এনাম বলেন, ‘বুধবার বেলা ১১টায় লালানগর হোসনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। পরে লালানগর বন্দরবাজার পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-সংলগ্ন কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাঁদের দাফন করা হবে।'

চার ভাইয়ের কবর খোঁড়ার কাজ করেছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গাউছিয়া কমিটির সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মা খাদিজা বেগম বয়স ও অসুস্থতায় ভেঙে পড়েছেন। বিধবা এই নারী অনেক কষ্ট করে পাঁচ ছেলেকে বড় করেছেন। চার ভাই বিদেশে যাওয়ার পর পরিবারটিতে সুদিন ফিরেছিল। স্বস্তি মিলেছিল বৃদ্ধা মায়ের। তাই চার ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁকে পুরোপুরি জানানো হয়নি। তবে বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীর ভিড় এবং কান্নাকাটি দেখে তিনি আঁচ করতে পেরেছেন যে খারাপ কিছু হয়েছে।

১৫ মে ছোট দুই ভাইয়ের দেশের আসার কথা ছিল। কিন্তু ১৩ মে ওমানে ঘটা নজিরবিহীন দুর্ঘটনায় একসঙ্গে চার ভাই লাশ হয়ে গেলেন। দেশে আসা হলো না দুই ভাইয়ের। তবে চার ভাই দেশে আসছেন নিথর দেহে কফিনবন্দী হয়ে। আনন্দের পরিবর্তে সীমাহীন বেদনার এক গল্প হয়ে মায়ের কাছে ফিরছেন তাঁরা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৩ মে স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করতে ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন চার ভাই। পথে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান অন্য তিন ভাই। ক্লিনিকে সিরিয়াল পেতে দেরি হওয়ায় তাঁরা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

পরে স্থানীয় লোকজন ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী জানান, দূতাবাস ও ওমান সরকারের সহযোগিতায় চারজনের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

শিক্ষার্থীর বাসায় মিলল গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি: প্রধানমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত