Ajker Patrika

অতিবৃষ্টিতে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

  • জমিতে পানি জমে পাকা ধান তলিয়ে গেছে।
  • শুকাতে না পারায় কেটে আনা ধানে পচন।
  • ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।
­আরিফুল ইসলাম রিগান, কুড়িগ্রাম
অতিবৃষ্টিতে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
টানা বৃষ্টিতে কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও হাঁটু উচ্চতায় পানি জমেছে। পানিতে প্রায় নিমজ্জিত ধান কেটে কিনারে আনছেন কৃষকেরা। ছবিটি গতকাল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তোলা। আজকের পত্রিকা

টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের বোরোচাষিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জমিতে পানি জমে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। আবার কেটে আনা ধান ও খড় শুকাতে না পারায় পচন ধরছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, সেই শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।

গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বোরো জমিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছিলেন কৃষক ফুলমিয়া (৫৭) ও তাঁর ছেলে শাহিন (১৮)। ফুলমিয়া বলেন, ‘দিনরাত বৃষ্টি হচ্ছে। ধান কাটার পর শুকাতে পারছি না। এমন অবস্থা হয়েছে যে কী করব বুঝতে পারছি না।’

একই গ্রামের কিষানি ইয়াতুন্নেছা বলেন, পানিতে থাকা ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি মজুরিতে শ্রমিক মিললেও বৃষ্টির কারণে ধান ও খড় শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধান পচে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।

শুধু রৌমারী নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বোরো জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবার কাটা ধান ও খড়ের গাদায় পচন ধরছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে পাকা ধান দ্রুত কেটে মাড়াই করে ছাউনিযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। বাতাসে কিছুটা শুকিয়ে গেলে পরে রোদে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে খড় সংরক্ষণে কার্যকর বিকল্প কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়ে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী তিন-চার দিন বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। দিনের বেলায় আবহাওয়া স্বাভাবিক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এবার অতিবৃষ্টিতে বোরোচাষিরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই কৃষকদের এগিয়ে যেতে হবে।’

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘যারা এখনো ধান কাটেননি, তাঁদের দ্রুত পাকা ধান কেটে নিতে হবে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলে ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৩ মে জেলায় ১৯০ মিলিমিটার এবং ১৮ মে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

শিক্ষার্থীর বাসায় মিলল গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি: প্রধানমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত