
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বজায়শুলী গ্রামের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় তারা খাসেরহাট গুচ্ছগ্রাম এলাকার একটি ঢালাই ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। মাথার ঠিক ওপরে কংক্রিটের গার্ডার আর পাশেই খালের পানি—এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ শত শত মানুষ।
জানা গেছে, খাসেরহাট গুচ্ছগ্রাম ঢালাই সেতু থেকে উত্তর দিকে বজায়শুলী গ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি গেছে। বজায়শুলী গ্রামের মৃত মোসলেম সরদারের ছেলে মোস্তফা সরদার ও তাঁর লোকজন চলাচলের মূল রাস্তাটি শুকনা নারিকেল পাতা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছেন। এতে গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার প্রায় এক বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
বজায়শুলী গ্রামের জিয়াউর রহমান শরীফ জানান, ‘আমাদের চলাচলের আর কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়ে আমাদের খাসেরহাট কাঠেরপুল এলাকার ঢালাই ব্রিজের একদম নিচ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গ্রামবাসী খাসেরহাট গুচ্ছগ্রাম এলাকার ঢালাই সেতুর নিচের ফাঁকা অংশ দিয়ে যাতায়াত করছে। সেতুর নিচের নিচু ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এই কর্দমাক্ত পথ দিয়ে পিঠ সোজা করে হাঁটাও কষ্টকর। যেকোনো মুহূর্তে মাথায় আঘাত পাওয়া বা পাশে থাকা খালের পানিতে পড়ে যাওয়ার মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মন্নান ফকির জানান, খাসেরহাট গুচ্ছগ্রামে আগে বেইলিসেতুর পশ্চিম পাশে সরকারি খাসজমি দিয়ে একটি রাস্তা ছিল। বেইলিসেতু ভেঙে ঢালাই সেতুর গাইডওয়াল নির্মাণের সময় ওই রাস্তাটি সরু হয়ে গেলে মোস্তফা সরদার ও তাঁর লোকজন পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। খাস জমির রাস্তাটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে তাঁরা উল্টো আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত ও থানা থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা পারভেজ খান বলেন, পথটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষ সাধারণ চলাচলের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল। ঢালাই সেতু নির্মাণের পর তা বন্ধ করে দেওয়ায় শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। একটি মাত্র রাস্তার জন্য আজ পুরো এলাকার দুই শতাধিক পরিবার বন্দিদশা পার করছে। এই অচলাবস্থার দ্রুত অবসান ঘটাতে এবং নিরাপদে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া সেতুর নিচ দিয়ে সরু রাস্তা হওয়ায় খালটি ভরাটের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে মোস্তফা সরদার বলেন, তাঁদের রেকর্ডীয় জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করতে চাওয়ায় তাঁরা বেড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন জমিটি সরকারি দাবি করায় আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, রাস্তা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নোটিশও জারি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করার সুযোগ নেই। খাসেরহাট গুচ্ছগ্রাম সেতুর পশ্চিম পাশ দিয়ে সরকারি জমি থাকলে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে বন্ধ রাস্তা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বর্ষা এলেই মৌলভীবাজারের টিলা-পাহাড়ঘেরা জনপদে নেমে আসে আতঙ্ক। তবু ঝুঁকি নিয়ে এসব স্থানে বসবাস করছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চার বছরে টিলাধসে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে
গর্ভাবস্থার শুরু থেকে ঠাকুরগাঁও মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন রাশেদা আক্তার। চিকিৎসকদের আশ্বাস আর সাশ্রয়ী খরচের কথা ভেবে আশা করেছিলেন, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানেই নিরাপদে জন্ম নেবে তাঁর সন্তান। কিন্তু প্রসববেদনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাতালে পৌঁছার পর আশাহত হন।
৩ ঘণ্টা আগে
মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিবেশীদের হামলায় গুরুতর আহত আমিরুল মোল্যা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের সোয়া শতডাঙ্গা গ্রামে অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
৪ ঘণ্টা আগে
পাবনা শহরে রয়েছে অসংখ্য পুকুর, দিঘি ও প্রাকৃতিক জলাধার। একসময় এসব জলাধার ছিল সুপেয় পানির প্রধান উৎস, ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষার কার্যকর মাধ্যম এবং নগরীর সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন। কিন্তু দখল, দূষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব জলাধার হারিয়ে যাওয়ার পথে।
৪ ঘণ্টা আগে