
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র ক্রেতা হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় ধনী রাজতান্ত্রিক দেশগুলো। তেল-সমৃদ্ধ এই রাষ্ট্রগুলো বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য দায়ী। যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম—সবই তারা মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে কিনে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর, এই নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
সৌদি আরব ঘোষণা দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটের অর্ধেকই দেশের ভেতরে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সৌদি অ্যারাবিয়া মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজ (সামি) বিশ্বের শীর্ষ ২৫ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি মূলত মার্কিন যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সীমিত পরিসরে সাঁজোয়া যান তৈরি করছে। কাতারের বারজান হোল্ডিংসও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলেও তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সবচেয়ে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। ২০১৯ সালে প্রায় ২৫টি আমিরাতভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান একীভূত করে গঠন করা হয় এজ (EDGE) গ্রুপ। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ইতালির ডিজেল ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী কোম্পানি ‘কস্ট্রুজিওনি মোটোরি ডিজেল’-এর ৮০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে। পাশাপাশি ইতালির লিওনার্দো ও ফিনকান্তিয়েরি, জার্মানির রাইনমেটাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বিকাশমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলেছে।
গত বছর এজ গ্রুপের আয় ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের নতুন অর্ডার পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মোট অমীমাংসিত অর্ডারের পরিমাণ ২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। প্রধান নির্বাহী হামাদ আল-মারারের মতে, আগামী দুই বছরে কোম্পানির আয় আরও প্রায় ২০ শতাংশ বাড়বে। বর্তমানে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদ তৈরিতে বিশ্বের শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এজ।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য সব ধরনের অস্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি করা নয়; বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও যেসব সরবরাহ শৃঙ্খল আন্তর্জাতিক সংকটে বিঘ্নিত হতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়া। শুধু বিদেশি প্রযুক্তির মালিকানা অর্জন নয়, নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও এখন গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, এজের সম্প্রসারণের ফলে বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানিতে ইউএইর অংশ ২০১৬-২০ সময়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২১-২৫ সময়ে কমে ২ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এজ তাদের উৎপাদিত সামগ্রীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। চলতি বছরের শুরুতে কাতারের বারজানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি, আর সৌদি সামিকেও তাদের সামরিক যান প্রযুক্তির লাইসেন্স দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এজের সক্ষমতাকে বাস্তব যুদ্ধে পরীক্ষিত করেছে। ইউএই কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের পাঠানো প্রায় ৮০ শতাংশ শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে দেশীয় প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা শত্রুর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে জ্যামিং ও বিভ্রান্তিমূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদনে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভর হওয়ার যে কৌশল ইউএই কয়েক বছর আগে গ্রহণ করেছিল, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মচারীর ওপর লাই ডিটেক্টর বা পলিগ্রাফ পরীক্ষা চালিয়েছে পেন্টাগন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন সামরিক তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে...
১০ ঘণ্টা আগে
ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আজ শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ওই বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, পারস্য সাগরে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী এবং একটি গাইডেড-মিসাইল
১২ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর কিয়েভে তিন দিনের জন্য সব ধরনের রুশ হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিন এ ঘোষণা দেয়...
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতকে অত্যন্ত ‘তুচ্ছ বিষয়’ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ১৮ মার্কিন সেনার প্রাণহানি হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি একে পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধ’ হিসেবে মানতে নারাজ...
১৪ ঘণ্টা আগে