
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের রেফারি হিসেবে স্লাভকো ভিনচিচের নাম ঘোষণা করতেই পুরো হলরুম করতালিতে ফেটে পড়ল। তাঁকে সবাই জড়িয়ে ধরলেন। আবেগে তিনি কেঁদেও ফেলেছেন। রেফারি হিসেবে অনেক সুনাম থাকলেও স্লোভেনিয়ান এই রেফারির এক অন্ধকার অতীত রয়েছে।
ভিনচিচের জীবনে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিল ২০২০ সালে। ছয় বছর আগে পতিতাবৃত্তি, মাদক এবং অস্ত্র পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটেছিল বসনিয়ার বিজেলজিনার একটি কেবিনে ছিলেন। সেখানে পুলিশ তাঁকে যৌনপাচার ও মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশি অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৯ নারী, ২৬ পুরুষ, কোকেনের ১৪ প্যাকেট, ১০ আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং ১০ হাজার ইউরোরও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
রেফারি হিসেবে সুনাম বাড়তে থাকায় ২০২০ সালের ঘটনা ভিনচিচের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৎক্ষণাৎ তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি শুধু মধ্যাহ্নভোজের একটি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলাম। আর সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য আমি অনুতপ্ত। সঙ্গীদের সঙ্গে একটি টেবিলে বসে ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ এসে পড়ে। তারপর যা হওয়ার তাই হয়েছে।’
২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভিনচিচ। ১৬ বছরে অনেক ‘হাইপ্রোফাইল ম্যাচ’ পরিচালনা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ নেশনস লিগের স্পেন-ইতালি সেমিফাইনাল। রোবরারের বিশ্বকাপ ফাইনাল রেফারি হিসেবে ভিনচিচের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ম্যাচ। ২০২২ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-সৌদি আরব ম্যাচ দিয়ে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ রেফারি হিসেবে ভিনচিচের পথচলা শুরু। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ওয়েলস ম্যাচেও ছিলেন রেফারি। এরপর ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ব্রাজিল-মরক্কো, জর্ডান-আলজেরিয়া, মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচও পরিচালনা করেছেন। এখন পর্যন্ত ১৫ হলুদ কার্ড এবং এক লাল কার্ড দিয়েছেন তিনি।
ভিনচিচের সঙ্গে আর্জেন্টিনার একটি পরোক্ষ সংযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালে তিনি ক্লাব বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও মেক্সিকোর মনতেরেইয়ের ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন কাস্তানিওকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। ২০২৪ চ্যাম্পিয়নস লিগের রিয়াল মাদ্রিদ-বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ম্যাচেও ছিলেন রেফারি।
নিউজার্সিতে পরশু স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। যদি আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পরশু বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন। তবে এই ফাইনাল মাঠে বসে দেখবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
২ ঘণ্টা আগে
লুইস দে লা ফুয়েন্তের চাওয়াটাই তাহলে পূরণ হয়েছে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ বলেছিলেন, ফাইনালে তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে চান আর্জেন্টিনাকে। স্পেন কোচের এই চাওয়ার পেছনে রয়েছে ‘গুরু-শিষ্যের লড়াই’ কিংবা বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর লড়াই।
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারিং বলে কথা। যে টুর্নামেন্টের জন্য পুরো বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীরা টিভি সেটের সামনে বসে থাকেন, তাঁর চূড়ান্ত পরিণতি এই বিশ্বকাপ ফাইনাল। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ ম্যাচ পরিচালনা করবেন বলে আবেগে কেঁদেই ফেললেন স্লাভকো ভিনচিচ।
৩ ঘণ্টা আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে কত নতুন কিছুই তো এনেছে ফিফা। হাইড্রেশন ব্রেকের পাশাপাশি ভিএআর ক্ষমতার সম্প্রসারণ যে নতুন সংযোজনেরই অংশ। ফাইনালে থাকছে আরও চমক। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বিশেষ আংটি দিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা।
৩ ঘণ্টা আগে