
কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে কঠোর অভিযান চালানোর পর চীনা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রগুলো এখন নতুন আশ্রয়স্থল হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে বেছে নিচ্ছে। দেশটির পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় অনলাইন জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধ চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
এ বিষয়ে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত একাধিক অভিযানে বিদেশি নাগরিকদের পরিচালিত সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চলতি জুনের মাঝামাঝি কলম্বোর একটি অভিযানে ১৮ জন চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। এর আগে মে মাসে শহরতলির আরেকটি অভিযানে ৩৭ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কা পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ সুপার ফ্রেডরিক উটলার বলেন, সাইবার জালিয়াতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এসব চক্রের ভাড়া নেওয়া ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালানো হয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুধু অভিযানে গ্রেপ্তারই নয়, এই ধরনের অপরাধ ঠেকাতে শ্রীলঙ্কার কাস্টমস কর্মকর্তারাও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। গত এপ্রিলে কলম্বোর প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯ জন চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁরা বিপুল পরিমাণ যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ৩৮৩টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ১০১টি ট্যাবলেট ও ছয়টি ওয়াই-ফাই রাউটার।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সাইবার প্রতারণাসংশ্লিষ্ট অভিযানে ৭০০-এর বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৩০। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন ছাড়াও ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের প্রধান মাহিল ডোলে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি এমন এক নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের মুখোমুখি, যা ডিজিটাল প্রযুক্তি, দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও পুরোনো আইনকে কাজে লাগাচ্ছে। তাঁর মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রীলঙ্কা কেবল সাইবার অপরাধের শিকারই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অপরাধ চক্রের কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্রেও পরিণত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিপাইনে অফশোর অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে অপরাধ চক্রগুলো শ্রীলঙ্কার দিকে ঝুঁকতে থাকে। পরে থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ায় অস্থিরতা দেখা দিলে এই স্থানান্তর আরও দ্রুত হয়।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক, মিথ্যা বিনিয়োগের প্রলোভন ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু ২০২৪ সালেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক প্রতারণা চক্রের কারণে মার্কিন নাগরিকদের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত সংগঠিত ও দ্রুত স্থান পরিবর্তনে সক্ষম এসব চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে আজ মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জারি করা সেই নির্বাহী আদেশ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। ৬-৩ ভোটের এই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের...
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি ও সাংবিধানিক ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িত। ল্যাটিন শব্দ ‘জাস সোলি’ বা মাটির অধিকারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ধারণাটি...
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে এক বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) জালিয়াতির অভিযোগে চীনের এক সময়ের শীর্ষ ধনী ও আবাসন ব্যবসায়ী গুও ওয়েনগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) নিউইয়র্কের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন...
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক রায়ে আদালত ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক...
৭ ঘণ্টা আগে