Ajker Patrika

ইরানে ট্রাম্পের ‘কঠোর আঘাতের’ পর বাড়ল তেলের দাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১১: ০১
ইরানে ট্রাম্পের ‘কঠোর আঘাতের’ পর বাড়ল তেলের দাম
ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ দফার কঠোর সামরিক হামলার পর গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ পুনর্বহাল হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ৮৫ ডলারে উঠেছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে। এর ফলে কিছু জাহাজ ওমান উপকূলঘেঁষা বিকল্প পথ ব্যবহার করছে, যদিও ওই রুট তেহরানের অনুমোদিত নয়।

গ্যাসোলিনের দামও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় গড় মূল্য এখনো প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের সামান্য নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে এএএ। বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য ৩ দশমিক ৯৯২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি।

এদিকে শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ডাও জোন্স ফিউচার, এসঅ্যান্ডপি ফিউচার এবং নাসডাক ফিউচার, তিনটিই প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ করে কমেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নবম দফার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের উপকূলীয় সামরিক নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দফার অভিযান শেষ হয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অঞ্চলে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিহত হওয়ার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘সেই মহান মানুষগুলো, সেই মহান দেশপ্রেমিকরা সেখানে যুদ্ধ করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। আজ রাতেও আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হেনেছি।’

তিনি আরও বলেন, নিহত মার্কিন সেনাদের সম্মানেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এই সংঘাতে ইরান সামরিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘সামরিক দিক থেকে তারা প্রায় সবকিছুই হারিয়েছে।’ এ সময় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করি। তারা কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে না। এখন দেখা যাক কী হয়।’

তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, জুনের মাঝামাঝি হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক দায়িত্ব একমাত্র ইরানের ওপর ন্যস্ত ছিল। যদিও নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে সেই চুক্তি ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত