চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সূচকে একসঙ্গে বিপরীতমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ সময়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড় আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমে গিয়ে প্রায় ১০৮ কোটি ডলারের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এর বিপরীতে ঋণের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৭.৭৭ কোটি ডলার বা ৩.৩ শতাংশ। তবে একই সময়ে অনুদান প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৭.৭ কোটি ডলার, যা ৫৬.৩ শতাংশ হ্রাসের সমান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ। আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ আগের তুলনায় বেড়েছে ২৬.৩৩ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়া ও দায় বাড়ার এই দ্বৈত চাপে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও চাপে পড়ছে। গতকাল সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা থেকে উঠে এসব তথ্য।
পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণছাড় হয়েছিল ৪১৩ কোটি ডলারের বেশি। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০৫ কোটি ডলারে। অর্থাৎ ঋণপ্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রকল্প বাস্তবায়ন দুর্বলতা এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনের নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততা। ফলে প্রকল্পের গতি কমেছে, আর ঋণের অর্থ সময়মতো ছাড় করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মনোযোগের এই বিভাজন সরাসরি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব ফেলে। এতে বিদেশি সহায়তার কার্যকারিতা কমে যায় এবং অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ঋণের প্রতিশ্রুতি কিছুটা বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট প্রতিশ্রুতি ছিল ২৩৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৪৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ অংশ বেড়ে ২০৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলার থেকে ২২৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারে উঠেছে। তবে অনুদান প্রতিশ্রুতি কমে ৩১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার থেকে নেমে এসেছে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে। ফলে সামগ্রিকভাবে সহায়তার গুণগত মানে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ অনুদান কমে গেলে প্রকল্প ব্যয় পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ২৮৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ১৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার এবং সুদ ৯৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৬৩ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিশোধের চাপ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। এই বাড়তি দায় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় এখন ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল এবং শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের মতো প্রকল্পে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প শেষ হওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের ধাপ শুরু হয়েছে।
ঋণছাড়ের ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে রাশিয়া সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে, ৭৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৫৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। চীন ও ভারত যথাক্রমে ২৫ কোটি এবং ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ডলার ছাড় করেছে। জাপান থেকে এসেছে প্রায় ১৯ কোটি ডলার। তবে অর্থছাড় থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে এর পূর্ণ সুফল নাগরিক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এ প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। প্রতিশ্রুতি বাড়লেও যদি বাস্তবায়ন দুর্বল থাকে, তাহলে ঋণের কার্যকারিতা কমে যাবে। একই সঙ্গে বাড়তি ঋণ পরিশোধ অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে। তাই বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বিত পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে ৩৫ হাজার ৩৯৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আজ সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
রোববার ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি-১৪) ফাঁকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য
৯ ঘণ্টা আগে
কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর আগামীকাল মঙ্গলবার আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিক নিয়মে আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে আর মাত্র এক দিন। তবে আগামীকালের পর কেউ আয় কর দিতে চাইলে আগেই অনলাইনে আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নিতে হবে।
৯ ঘণ্টা আগে
বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, ইউএস মিন্ট (মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের একটি ব্যুরো) ডলার ছাপে। সরকার প্রিন্টারে কমান্ড দেয় আর বিশ্বজুড়ে ডলার ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সে ধারণা ভুল। সত্যিটা অনেক ভয়াবহ- আর এটাই আপনার সম্পদ ‘চুরির’ কারণ। প্রকৃত অর্থে যা ঘটে, তা নিচে দেওয়া হলো-
৯ ঘণ্টা আগে