Ajker Patrika

ভোক্তা মূল্যসূচক

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ৩ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে

  • জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
  • খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।
  • মজুরি বৃদ্ধির হার এখনো মূল্যস্ফীতির নিচে।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ৩ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে
প্রতীকী ছবি

দেশে মূল্যস্ফীতির হার টানা তিন মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সর্বশেষ বিদায়ী জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য তাতে বড় কোনো স্বস্তি আসেনি।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ এখনো বহাল রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জুন মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকে (সিপিআই) গতকাল সোমবার দেশের মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। মে মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। তবে এপ্রিল, মে ও জুন—টানা তিন মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকল।

জুনে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্য খাত। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে।

গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির হার এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে মানুষের আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। জুন মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা একই সময়ের মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব এখনো বাজারে রয়ে গেছে। এর ফলে কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন করছাড়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমানো বা বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত