
দেশে সোনার দাম ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিন গড়ছে নতুন রেকর্ড। আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতি, ডলার-সংকট ও আমদানির জটিলতা প্রভাব ফেলছে স্থানীয় বাজারে। ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।
নভেম্বরে বিয়ের মৌসুম ঘিরে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। কারণ, দাম যত বাড়ে, ট্যাক্সও তত বাড়ে, সঙ্গে যোগ হয় মজুরি। সব মিলিয়ে এক ভরি গয়না কিনতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকা। এত খরচে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সোনা কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছেন। ফলে এই শিল্প একশ্রেণির ক্রেতা হারাচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) গতকাল মঙ্গলবার থেকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বাড়িয়েছে। প্রতি ভরির দাম বেড়েছে ১ হাজার ২৬০ টাকা। নির্ধারিত নতুন দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হয়। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি গয়না কিনতে ক্রেতার খরচ হয় এখন ২ লাখ ২ হাজার টাকার বেশি। এর ফলে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় অংশ এখন বাধ্য না হলে স্বর্ণালঙ্কার কেনা থেকে বিরত থাকছে।
চলতি মাসের ৯ দিনে সোনার দাম পাঁচবার বেড়েছে। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ১৬ বার কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৫ বার বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমেছিল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জড়োয়া হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদল চন্দ্র রায় বলেন, এখন আমাদের বিক্রির চেয়ে কিনতে হচ্ছে বেশি। একদিকে সোনার দাম বেড়েছে, অপর দিকে অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। মানুষ জীবনের বড় ব্যয় মেটাতে পুরোনো গয়না বিক্রি করছে। গত চার-পাঁচ মাসে বিক্রি ৩০-৪০ শতাংশ কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশও হতে পারে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে দোকানগুলোয় নতুন গয়না ৭০ শতাংশ বিক্রি ও পুরোনো গয়না ক্রয় ছিল ৩০ শতাংশ। এখন বিপরীত চিত্র; ৭০ শতাংশ ক্রয় ও ৩০ শতাংশ বিক্রি।
রাজধানীর গোপীবাগের ক্রেতা আনোয়ার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা বাজেট করেছি; কিন্তু দাম বাড়ায় সব পরিকল্পনা সম্ভব হচ্ছে না।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনার প্রতি বেশি আগ্রহী। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এবং দেশে দাম বেড়েছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ও বাজুস সহসভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, সোনার দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বিক্রি কমেছে; কারিগরেরা বেকার হয়ে পড়ছেন।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের গুলশান প্রধান শাখার ইনচার্জ সাগর সরকার বলেন, দামের উত্থান সাধারণত বিক্রি বাড়ায়, কিন্তু এবার বিক্রি কমেছে। অনেক মানুষ কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে। গত চার-পাঁচ মাসে ডায়মন্ডের বিক্রি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার বা বন্ডের বদলে সোনাকে নিরাপদ মনে করেন। তাই আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উন্নয়ন সাময়িকভাবে ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। তাঁদের এই সতর্কবার্তার পর আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে...
১৪ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের চেনা চিত্র এবার উল্টে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজার ছিল ভারত। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মৌসুমে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হতো।
১০ ঘণ্টা আগে
শিল্পের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল। একটি দেশে বিনিয়োগ কতটা বাড়ল কিংবা কমল, নির্দিষ্ট সময়ের হিসাবে এ দুই উপকরণের আমদানি হ্রাস-বৃদ্ধির প্রবাহ থেকেই বোঝা যায়।
১৮ ঘণ্টা আগে
দেশের পুঁজিবাজারে এখন গুজব, অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট সমান্তরাল রেখায় চলছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আচরণও বেশ অস্থির হয়ে উঠছে। সপ্তাহের বেশির ভাগ কার্যদিবসে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের পরিস্থিতি তাঁদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২ দিন আগে