Ajker Patrika

বিটকয়েনের দামে মহাধস, উধাও ২ ট্রিলিয়ন ডলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ৫৫
বিটকয়েনের দামে মহাধস, উধাও ২ ট্রিলিয়ন ডলার

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দামে ভয়াবহ ধস নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ধাক্কায় বিটকয়েনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ২৯৫ ডলারে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিটকয়েনের বাজারমূল্য প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতন।

ক্রিপ্টো বাজারের তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা কয়েনগ্লাসের মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাজারে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের বিটকয়েন পজিশন লিকুইডেট বা হাতছাড়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গত বছরের অক্টোবরে ক্রিপ্টো বাজার যখন ৪ দশমিক ৩৭৯ ট্রিলিয়ন ডলারের শিখরে ছিল, সেখান থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে। শুধু গত এক মাসেই বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

বিটকয়েনের পাশাপাশি দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দামও ১৩ শতাংশের বেশি কমে ১ হাজার ৮৫৪ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ইথারের দাম কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধসের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে:

১. প্রযুক্তি শেয়ার ও মূল্যবান ধাতুর পতন: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দামের অস্থিরতা এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ব্যাপক বিক্রির প্রভাব পড়েছে ক্রিপ্টো বাজারে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমেছে।

২. ফেডারেল রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ: ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে বেছে নেওয়া ক্রিপ্টো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়ারশ ফেডারেল রিজার্ভের ব্যালেন্স শিট সংকুচিত করতে পারেন, যার ফলে বাজারে তারল্য কমবে এবং বিটকয়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দাম আরও কমবে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া: ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েন ইটিএফ থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে, যা নির্দেশ করে বড় বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টো সম্পদের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।

কয়েন ব্যুরোর বিনিয়োগ বিশ্লেষক নিক পাকরিন জানিয়েছেন, ক্রিপ্টো বাজার এখন পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ বা ‘ক্যাপিচুলেশন’ মোডে রয়েছে। এটি এখন আর কোনো সাধারণ সাময়িক সংশোধন নয়, বরং বাজারের একটি বড় ধরনের পরিবর্তন।

বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে অতি উৎসাহে ভাটা এবং প্রযুক্তি খাতের মন্দা ক্রিপ্টো খাতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটকয়েন মাইনাররা যদি বাধ্য হয়ে তাঁদের মজুত করা মুদ্রা বিক্রি করতে শুরু করেন, তবে এই ধস আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত