Ajker Patrika

জ্বালানি থেকে কৃষি: ইরান যুদ্ধ যেভাবে কঠিন করে তুলবে জীবনযাপন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
জ্বালানি থেকে কৃষি: ইরান যুদ্ধ যেভাবে কঠিন করে তুলবে জীবনযাপন
কিছু তেলের পাম্প বন্ধ থাকায় পরিবাগের মেঘনা তেলের পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন। ছবি: আজকের পত্রিকা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাব কেবল সুদূর আরব দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোয় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম থেকে শুরু করে আপনার রান্নাঘরের বাজার-সদাই—সবই আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধ যেভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলবে, তার পাঁচটি প্রধান দিক নিচে তুলে ধরা হলো—

জ্বালানি তেল ও পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে পেট্রলে ৩ পেন্স ও ডিজেলে ৫ পেন্স দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও গ্যালনপ্রতি ২৩ থেকে ৪১ সেন্ট দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে এই দাম বৃদ্ধি দেশের বাজারেও বড় প্রভাব ফেলবে। এর ফলে বাসভাড়া, পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া ও সামগ্রিক পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।

এলএনজি সংকট ও গ্যাসের দামের ধাক্কা

যুক্তরাজ্যে মাত্র এক সপ্তাহে গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির মাধ্যমে মেটায়। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে ও সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশেও শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এতে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা রয়েছে।

স্থবির শিপিং রুট ও আমদানি ব্যয়

ইরানের হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আইএমএফের তথ্যমতে, জাহাজভাড়া বা শিপিং খরচ বাড়লে এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে সময় লাগে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়। সুপারট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া এখন ৪ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহের দ্বিগুণ। বাংলাদেশ যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, তাই শিপিং চার্জ বাড়লে চিনি, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বিদেশ থেকে আসা সব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।

সারের দাম ও কৃষিসংকট

বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য সার একটি অপরিহার্য উপাদান। মধ্যপ্রাচ্য সারের কাঁচামাল ও ইউরিয়া সারের অন্যতম প্রধান উৎপাদক। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরিয়া সারের দাম ২১ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৫৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কাতার এনার্জি তাদের কারখানায় হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় সারের বিশ্ব সরবরাহ আরও কমেছে। সারের দাম বাড়লে দেশের প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাল ও সবজির দামে।

মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান

বিশ্বজুড়ে যখন মুদ্রাস্ফীতি কমতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই যুদ্ধ সেই ধারাকে উল্টে দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে এর বিরূপ প্রভাব ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও মুদ্রাস্ফীতি আবার বেড়ে যেতে পারে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো হিমশিম খাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত