Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্থগিত করল কিছু কোম্পানি, বিশ্ববাজারে সংকটের শঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্থগিত করল কিছু কোম্পানি, বিশ্ববাজারে সংকটের শঙ্কা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন স্থগিত করেছে বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় তেল ও বাণিজ্যিক কোম্পানি। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

একটি শীর্ষস্থানীয় ট্রেডিং কোম্পানির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আপাতত আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন যেখানে আছে সেখানেই অবস্থান করবে (চলাচল করবে না)। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিগুলো।

কেন এই হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ

আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনি হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবাহিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই পথে তেল পরিবহন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশ্লেষক উমুদ শোকরি বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে। আংশিক বিঘ্ন ঘটলেও দামের বড় উল্লম্ফন হবে, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক মন্দারও ঝুঁকি তৈরি হবে।’ তবে এটিকে শেষ অস্ত্র হিসেবেই দেখা হয়। কারণ, এতে ইরানের নিজের বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের প্রভাবের প্রতিক্রিয়া এসব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়বে।

ইরানের হাতে এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার নাড়ি চেপে ধরা। আর এটি হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ এলএনজি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান হুমকি দিয়েছে, আক্রান্ত হলে তারা এই পথ বন্ধ করে দেবে। তবে আজ এখন পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।

যদি তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে চরম মূল্যস্ফীতি ও মন্দা তৈরি করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত