Ajker Patrika

ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুরে ডুবে বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুরে ডুবে বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ঠাকুরগাঁও সদর ও হরিপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধা ও এক প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর (জলকাইপাড়া) গ্রামের খতেজা বেগম (৭০) এবং হরিপুর উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের হুমায়রা আক্তার জান্নাত (৫) পানিতে ডুবে মারা যায়। শিশু হুমায়রা বাক, শ্রবণ ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে খতেজা বেগম একাই তাঁর ছোট ছেলে মো. নজরুলের বাড়ি থেকে বড় ছেলে মোখলেছুর রহমানের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুই বাড়ির সীমানার মাঝে যাতায়াতের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো রয়েছে, যা দিয়ে পরিবারের সদস্যসহ পাড়াপ্রতিবেশীরা চলাচল করেন। সাঁকোটি পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত খতেজা বেগম পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর সাঁকোর ওপারে থাকা স্থানীয় এক চা-দোকানি তৌহিদুল পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে নিহতের ছেলে মো. নজরুল, হাসিবুল ইসলামসহ প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুকুর থেকে খতেজা বেগমকে উদ্ধার করে ডাঙায় তোলেন। ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে মো. নজরুল ঠাকুরগাঁও সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বার্ধক্যের কারণে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে এই মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হরিপুর উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে পাঁচ বছরের শিশু হুমায়রা আক্তার জান্নাতের মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. জাহিরুল ইসলামের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুর পৌনে একটার দিকে হুমায়রা বাড়ির বাইরে যায়। এরপর দুপুর একটার দিকে তাকে আর দেখতে না পেয়ে মা মমতা পারভীন আশপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বাড়ির উঠানের উত্তর পাশের পুকুরে হুমায়রাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার দেন। পরে তার দাদা মো. তাইজুল হক পুকুরে নেমে নাতনিকে উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক মো. আবদুস সামাদ এসে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনায় শিশুর দাদা মো. তাইজুল হক বাদী হয়ে হরিপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। নাতনির মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার ও স্বজনদের কোনো সন্দেহ বা অভিযোগ নেই বলে থানায় জানানো হয়েছে।

হরিপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত