Ajker Patrika

সুনামগঞ্জে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হাওরে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হাওরে
বাঁশ-বস্তা দিয়ে বাঁধের ভাঙনের স্থান আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুনামগঞ্জে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে হাওরের কয়েক হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর সকাল হতে না হতেই শত শত কৃষক বাঁধ এলাকায় জড়ো হয়ে বাঁশ-বস্তা দিয়ে ভাঙনের স্থান আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়ন অংশে অবস্থিত দেখার হাওরের গুজাউনি বাঁধটি গতকাল শুক্রবার রাতে ভেঙে যায়। ভাঙনের ফলে পানি হাওরে ঢুকতে থাকে। সকালে খবর পেয়ে শতাধিক কৃষক ভাঙন এলাকায় গিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজে যুক্ত হন। ভাঙন এলাকার পাঁচ শতাধিক কৃষকের ফসল বাঁচাতে উথারিয়া বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

দেখার হাওরে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে এই হাওরে। সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে দেখার হাওরের বিস্তৃতি। এই হাওরে পানি ঢুকে শুধু সদর কিংবা শান্তিগঞ্জ না, ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষকও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ভোরে গুজাউনি বাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা তাড়াতাড়ি বাঁধে আসি। এই হাওরে আমি ৭ থেকে ৮ হাল (৩০ শতকে ১ কিয়ার, ১২ কিয়ারে ১ হাল) জমিতে বোরো আবাদ করেছি। যেভাবে পানি ঢুকছে, তাতে সবার ফসল ডুবে যাবে। এই ফসলের ওপরই আমাদের জীবন-জীবিকা। শান্তিগঞ্জ উপজেলার উথাইড়া বাঁধ আজকের মধ্যে না কাটলে আমাদের ফসল রক্ষা করা যাবে না।’

একই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু আমরা না, গোটা ছায়ার হাওরের মানুষ বিপদে পড়বে। গত রাত থেকেই হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। সকালে আমরা এসে যার যার অবস্থান থেকে বাঁধ বাধার চেষ্টা করছি। যদি সব জমি তলাইয়া যায়, তাহলে মরণ ছাড়া গতি থাকবে না আমাদের।’

লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাফিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢল কিংবা বন্যার পানি না, বৃষ্টির পানি জমাটবদ্ধ হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ভাঙনের ফলে সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত কয়েক হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবার চেষ্টায় কোনোরকম ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হলেও রাতে বৃষ্টি হলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ভাঙন এলাকায় ছুটে আসি। এটা শান্তিগঞ্জ উপজেলা অংশের বাঁধ, কিন্তু সদর উপজেলার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, আশা করি বন্ধ হয়ে যাবে।’

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘ওই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত না। এখানে কোনো বাঁধ হয়নি। সেখানে মাছ মারতে গিয়ে হয়তো ছোটখাটো ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছিল, যা বড় ভাঙনে রূপ নিয়েছে। সবার প্রচেষ্টায় ভাঙন রোধ করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শরীরে এইচআইভি জীবাণু পুশ, তরুণীর আত্মহত্যা

ঘণ্টায় ২৫০০০ মাইল বেগ, ৫০০০ ডিগ্রি তাপ সহ্য করে যেভাবে নিরাপদে অবতরণ নভোচারীদের

উত্তরায় হঠাৎ সিটিটিসি, সোয়াট, ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযান

লিভার সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাস বাদ দিন

ভ্যান্সকে ছাড়াই ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদল, আলোচনা চলতে পারে ১৫ দিন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত