লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। তবে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ছত্রাকযুক্ত বা পচা খাবার খাওয়া
বাদাম, শিম, ভুট্টা কিংবা চাল অনেক দিন ঘরে পড়ে থাকলে তাতে একধরনের ছত্রাক বা মোল্ড জন্মে। সেখান থেকে অ্যাফলাটোকিসন নামক বিষাক্ত উপাদান সৃষ্টি হয়। এটি একটি শক্তিশালী ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। ভয়ংকর বিষয় হলো, সাধারণ রান্নার তাপমাত্রায় এ বিষ নষ্ট হয় না। তাই কোনো শস্যদানা বা বীজে অস্বাভাবিক রং বা গন্ধ দেখা দিলে তা দ্রুত ফেলে দেওয়া উচিত।

নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন
অ্যালকোহল লিভারে মেটাবোলাইজ হওয়ার সময় অ্যাসিটালডিহাইড নামক বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি করে। এটি লিভার কোষের ডিএনএর ক্ষতি করে। নিয়মিত মদপান লিভারের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। ফলে ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস এবং শেষ পর্যন্ত লিভার ক্যানসার হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের হেপাটাইটিস বি বা সি আছে, তাঁদের জন্য এটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
রান্নার তেল বারবার ব্যবহার করা
একই তেল বারবার গরম করে রান্নায় ব্যবহার করলে তাতে অ্যাক্রোলিন এবং অ্যালডিহাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান সৃষ্টি হয়। এগুলো শরীরে কোষের মিউটেশন ঘটায় এবং লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, একই তেল সর্বোচ্চ দুবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। এর বদলে ভাজাভুজির পরিমাণ কমিয়ে সেদ্ধ বা ভাপে তৈরি খাবার খাওয়া বেশি নিরাপদ।
ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের অপব্যবহার
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ভেষজ সাপ্লিমেন্ট সেবন করলে লিভার ফেইলিওর বা হেপাটাইটিস হতে পারে। ওষুধের রাসায়নিক উপাদানগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ক্যানসারের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
লিভার ক্যানসার সাধারণত খুব নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে এবং শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। তাই ঝুঁকি কমাতে হেপাটাইটিস বির টিকা নেওয়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো বাদ দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে, যাঁদের পরিবারে লিভারের রোগের ইতিহাস আছে, তাঁদের আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে।
সূত্র: হেলথ লাইন

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনের কারণ এবং হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের দায় রয়েছে এবং সেসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
৮ ঘণ্টা আগে
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।
১০ ঘণ্টা আগে
বিশ ও একুশ শতকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অকল্পনীয় উন্নতি সত্ত্বেও একটি সাধারণ অভ্যাস এখনো প্রাণ বাঁচানোর কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃত। সেটি হলো ‘হাত ধোয়া’। ৫ মে ছিল ‘বিশ্ব হাত পরিচ্ছন্নতা দিবস’। ‘পদক্ষেপই জীবন বাঁচায়—নিরাপদ চিকিৎসা পরিচ্ছন্ন হাত থেকে শুরু হয়’ প্রতিপাদ্যে প্রতিবছরের মতো এ বছরও বিশ্ব....
১২ ঘণ্টা আগে
জন্মগত গ্লকোমা হলো এমন একটি চক্ষুরোগ, যা শিশুর জন্মের সময় বা জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে চোখের ভেতরের চাপ বাড়ার কারণে ঘটে। এটি বিরল রোগ। তবে চিকিৎসা ছাড়া তা স্থায়ীভাবে চোখের ক্ষতি এবং অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। জন্মগত গ্লকোমার মূল কারণ হলো চোখের অভ্যন্তরীণ তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত না হওয়া, যা চোখের ভেতরের..
১৪ ঘণ্টা আগে