
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সদর ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দ ভিজিডি কার্ড (ভিডব্লিউবি) বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত দরিদ্ররা নয়, কার্ড পেয়েছেন ইউপি সদস্যের মেয়ে, প্রবাসীর স্ত্রী, চাকরিজীবীর পরিবার, এমনকি ১৫ বিঘা জমি ও পাকা বাড়ির মালিকেরাও। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, সচিব ও এক প্রভাবশালী ইউপি সদস্য মিলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে এই তালিকা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, কার্ডের জন্য দিতে হয়েছে সাত থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ।
এ ঘটনায় মো. আবু হানিফ নামের এক ব্যক্তি ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি প্রশাসক ও সচিব একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছেন। এ ছাড়া তদন্ত চলাকালেই কার্ডধারীরা আগামী দুই মাসের চাল তুলে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় ইউপি সচিব মো. মহব্বত তালুকদার বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপি-সমর্থিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মো. সোলায়মান হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প, জন্ম ও মৃত্যুসনদ এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ সব কাজে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে আসছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিজিডি কার্ডের জন্য ইউনিয়নে আবেদন পড়ে ৫৬০টি। গত ডিসেম্বর মাসে যাচাই-বাছাই শেষে ১৬০ জনকে মনোনীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কার্ডধারীদের অন্তত ৫০ শতাংশই সচ্ছল পরিবার। প্রতিটি কার্ডের জন্য সাত থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। যাঁরা টাকা দিতে পারেননি, তাঁরা নীতিমালার আওতায় থাকলেও বাদ পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৃ-পাচান গ্রামে ১১ জন নারী ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৯ জনেরই আধা পাকা বাড়ি ও তিন থেকে ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, এই ওয়ার্ডেই সর্বাধিক কার্ড বিতরণ হয়েছে। ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেম্বর মো. সোলায়মান হোসেনের মেয়ে রুপিয়া খাতুনের নামেও রয়েছে ভিজিডি কার্ড, অথচ তাঁর বিয়ে হয়েছে পাশের উল্লাপাড়া উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রামে। একই ওয়ার্ডে বিশাল পাকা বাড়ির মালিক মো. আনিসুর রহমান ফনিক্সের মেয়েও কার্ড পেয়েছেন। এর কাছাকাছি জহুরুল ইসলামের পাকা বাড়ি, তাঁর স্ত্রী আকলিমা খাতুনের নামেও রয়েছে কার্ড।
বরাদ্দের ১৬০ কার্ডের মধ্যে শুধু বোয়ালিয়া গ্রামেই দেওয়া হয়েছে ৮৫টি। তার মধ্যে ৫০ জনই সচ্ছল। তাঁদের কারও আধা পাকা বাড়ি, কারও ১০-১৫ বিঘা জমি, কারও স্বামী প্রবাসী বা চাকরিজীবী। অথচ ওই গ্রামের শতাধিক অসচ্ছল নারী কার্ড বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মরিয়ম, আর্জিনা খাতুন ও রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা টাকা দিতে পারিনি বলে কার্ড পাইনি। অথচ ধনীরা টাকা দিয়ে ঠিকই কার্ড পেয়েছেন।’
জানতে চাইলে অভিযোগকারী মো. আবু হানিফ বলেন, ‘তদন্তে প্রতিকার না পেলে আমি আদালতে যাব।’ অভিযোগের বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মো. সোলায়মান হোসেন ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিছুটা তো ভুলত্রুটি হয়েই গেছে। লেখালেখি করলে ক্ষতি হয়ে যাবে।
ইউপি সচিব মো. মহব্বত তালুকদার বলেন, ‘আমি তো হুকুমের মালিক নই, প্রশাসক যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেটাই বাস্তবায়ন করেছি।’ তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সব ভিজিডি কার্ড নির্ধারণ করেছেন ইউপি সচিব ও মেম্বর সোলায়মান। আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি।’
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলার ইউএনও নুসরাত জাহান বলেন, ‘তাড়াশ সদর ইউনিয়নে কোনো লটারি হয়নি। সচিব ও মেম্বররা মিলে তালিকা করেছেন। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায় তাঁদের। এ-সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্ষা এলেই মৌলভীবাজারের টিলা-পাহাড়ঘেরা জনপদে নেমে আসে আতঙ্ক। তবু ঝুঁকি নিয়ে এসব স্থানে বসবাস করছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চার বছরে টিলাধসে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
১ ঘণ্টা আগে
গর্ভাবস্থার শুরু থেকে ঠাকুরগাঁও মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন রাশেদা আক্তার। চিকিৎসকদের আশ্বাস আর সাশ্রয়ী খরচের কথা ভেবে আশা করেছিলেন, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানেই নিরাপদে জন্ম নেবে তাঁর সন্তান। কিন্তু প্রসববেদনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাতালে পৌঁছার পর আশাহত হন।
২ ঘণ্টা আগে
মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিবেশীদের হামলায় গুরুতর আহত আমিরুল মোল্যা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের সোয়া শতডাঙ্গা গ্রামে অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে
পাবনা শহরে রয়েছে অসংখ্য পুকুর, দিঘি ও প্রাকৃতিক জলাধার। একসময় এসব জলাধার ছিল সুপেয় পানির প্রধান উৎস, ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষার কার্যকর মাধ্যম এবং নগরীর সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন। কিন্তু দখল, দূষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব জলাধার হারিয়ে যাওয়ার পথে।
২ ঘণ্টা আগে