সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী ও সর্বহারা সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্স-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জের সাতজন রয়েছেন।
এসআরবি-১২-এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসআরবি ফোর্স-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া। সভাপতিত্বও করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁদের আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে। তাঁরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা জটিলতা ও সমস্যার সমাধানেও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

এসআরবির সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্ধকার জগতে থাকা ব্যক্তিদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে একটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আত্মসমর্পণ করতে আসা মো. মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুব ভালো লাগছে।
আরেক আত্মসমর্পণকারী পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, ভুল পথে চলতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে জীবনের ১৫ বছর কেটে গেছে। আমার সঙ্গীরা প্রায়ই বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না।
আলমগীর নামের আরেক আত্মসমর্পণকারী বলেন, একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পেয়ে অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।
উল্লেখ্য, একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের ঘটনা ঘটত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের ফলে এসব এলাকায় চরমপন্থী তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে চরমপন্থী সংগঠনের অনেক সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।









