Ajker Patrika

লংমার্চে সীমিত অংশগ্রহণ: জোটে থেকেও এনসিপির নিজের রাজনীতিতে জোর

• নিজস্ব আদর্শ ও এজেন্ডা স্পষ্ট করতে চায় এনসিপি

• রাজধানীর মেয়র প্রার্থী নিয়ে ‘মতান্তরে’ ভিন্ন চিন্তার শুরু

• আগের লংমার্চে শীর্ষ নেতারা গেলেও এবার প্রতীকী উপস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
লংমার্চে সীমিত অংশগ্রহণ: জোটে থেকেও এনসিপির নিজের রাজনীতিতে জোর

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য জোটের কর্মসূচিতে সীমিত পরিসরে অংশ নিয়ে নিজেদের দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক এজেন্ডায় গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। এর চোখে পড়ার মতো প্রতিফলন দেখা গেছে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা অভিমুখী লংমার্চে। কয়েক দিন আগে থেকেই দলটির কয়েকজন নেতা এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলছিলেন।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। তবে এনসিপির কোনো নেতা এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। অথচ এই সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে পরে দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এনসিপির প্রতিনিধি হিসেবে লংমার্চের গাড়িবহরে যুক্ত হন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম আজকের পত্রিকাকে জানান, দলের রাজনৈতিক পর্ষদের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও আরিফুল ইসলাম আদীবসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা লংমার্চে যোগ দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, ১১-দলীয় ঐক্য অটুট রেখেই স্বতন্ত্র রাজনীতিতে জোর দিতে চায় দলটি। এ কারণে খুলনা অভিমুখী লংমার্চে সীমিত পরিসরে অংশ নেওয়া হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখী লংমার্চে দলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিবের উপস্থিতি ছিল।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান স্পষ্ট করতেই জোটের কর্মসূচির বদলে দলীয় কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে এনসিপি। নতুন দলটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় কারণ।

এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের একজন নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমঝোতায় জামায়াতের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পায়নি এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আসিফ মাহমুদকে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করার পরও জামায়াত সাদিক কায়েমকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। মূলত তখন থেকেই এনসিপি ‘একলা চলো’ নীতিতে চলার সিদ্ধান্ত নেয়।

যদিও নতুন দল হিসেবে নিজেদের তুলনামূলকভাবে সীমিত সক্ষমতাসহ সার্বিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এখনই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার পক্ষে নন দলের বেশির ভাগ নেতা। এ অবস্থায় নিজেদের স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চের আগের দিন শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ মনে করেন, জোটের সব কর্মসূচিতে সমান গুরুত্ব ও শক্তি দিয়ে অংশ নিয়ে এনসিপি শক্তভাবে নিজেদের আদর্শিক অবস্থান গড়ে তুলতে পারছে না। জামায়াতের ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে। এ জন্য ওই নেতাদের মত, নিজেদের স্বতন্ত্র কর্মসূচিতে মনোযোগী হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ইস্যুভিত্তিক। সংস্কার এজেন্ডাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কাজের সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই। স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েই আমরা রাজনীতি করতে চাই।’

আতিক মুজাহিদ জানান, এনসিপি নিজেদের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একই রকম কথা বলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এনসিপি এককভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। উপজেলা, ইউনিয়ন এবং সিটি করপোরেশনে এনসিপির একক প্রার্থী থাকবে। ইতিমধ্যে আমরা কিছু জায়গায় সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে এনসিপির সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছি। আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি চলমান।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত