Ajker Patrika

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর: মাঠের পর মাঠজুড়ে আমন ধানের ঘ্রাণ

• শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে খরচ বেশি পড়ছে কৃষকের, সেই সঙ্গে শ্রমিকসংকটও রয়েছে।

• পুরোপুরি ধান কাটার মৌসুম শুরু হতে আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে।

আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর: মাঠের পর মাঠজুড়ে আমন ধানের ঘ্রাণ
জমির পাকা ধান কাটছেন দুই কৃষক। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের রৌহাবাড়ী এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কোথাও মাঠজুড়ে পাকা ধান, কোনো কোনো জায়গায় ধানের শিষে সোনালি রং ধরেছে, কোথাও আবার সবুজ ধানগাছ। এই চিত্র সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের রৌহাবাড়ী এলাকার। কিছু জায়গায় ধান কাটাও শুরু হয়েছে।

ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে স্বস্তির ছাপ দেখা যায়। তবে ধান কাটার খরচ ও শ্রমিকসংকট নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা কাটছে না।

আমনের ভালো ফলনে খুশি রৌহাবাড়ী এলাকার কৃষক আবু বক্কার ও কাদের। কিন্তু ধান কাটার খরচ নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। দুই কৃষকের ভাষ্য, হারভেস্টর (ধান কাটা ও মাড়াই যন্ত্র) দিয়ে ধান কাটলে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচে। কিন্তু সব এলাকায় সহজে এই যন্ত্র পাওয়া যায় না। ফলে অনেক কৃষককে বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়। এতে খরচ বাড়ে। তবে সময়মতো শ্রমিক পাওয়া কঠিন।

কৃষকের হিসাবে, হারভেস্টর দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হয় এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। অন্যদিকে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে খরচ পড়ে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। কৃষকের মতে, প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত হারভেস্টর থাকলে ধান কাটার খরচ কমত ও সময় বাঁচত। ফলে লাভও কিছুটা বাড়ত। তাঁদের দাবি, উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়ছে না। ফলে ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ধান কাটার ব্যস্ততা আরও বাড়তে পারে।

রৌহাবাড়ী এলাকার কৃষক জব্বার প্রামাণিক বলেন, একজন শ্রমিককে দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ধান কাটা পুরোদমে শুরু হলে মজুরি আরও বাড়তে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলার ৯টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৭৬ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৭৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮১০ হেক্টর বেশি জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কাজীপুরে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। পুরোপুরি ধান কাটার মৌসুম শুরু হতে আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে।

কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গত মঙ্গলবার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত