Ajker Patrika

চুরির অপবাদে তরুণীকে গাছে বেঁধে, চুল কেটে, জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
চুরির অপবাদে তরুণীকে গাছে বেঁধে, চুল কেটে, জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন
চুরির অভিযোগে তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নে চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন, গাছে বেঁধে মারধর এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে হাজী শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ফারুক বেপারীর মেয়ে ফারিয়া আক্তারকে (১৮) উত্ত্যক্ত করতেন এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় ফারিয়াকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা এর আগেও মনিরকে সতর্ক করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন ফারিয়া তার ছোট ভাই-বোনকে নিয়ে মনিরের মুদি দোকানে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় মনির ফারিয়াকে অশালীন প্রস্তাব দেন। ফারিয়া প্রতিবাদ করলে তাঁকে এবং তাঁর দুই ভাই-বোনকে জোরপূর্বক দোকানের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয় এবং বেঁধে রাখা হয়।

পরে তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে চুরির অভিযোগ তুলে ফারিয়াকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নারী তাঁর মাথার চুল কেটে দেন এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে অপদস্থ করেন বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন নারী-পুরুষ নির্যাতন করছেন। কয়েকজন নারী তাঁর মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। ওই তরুণীকে চিৎকার করতেও দেখা যায়।

চুরির অভিযোগে তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
চুরির অভিযোগে তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিবারটির দাবি, থানা থেকে অভিযোগ তুলে নিতে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা নিজ বাড়ি ছেড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ফারিয়ার বাবা ফারুক বেপারী বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমার সন্তানদের আটকে রাখা হয়েছিল। এখন আমরা উল্টো বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মনির মোল্লা বলেন, ‘তাঁরা আমার দোকানে চুরি করেছিল। স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধেছে। ফারিয়ার চুল কেটেছে আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার। আমি এতে জড়িত নই। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।’

ভিডিওতে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ থাকা আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত