Ajker Patrika

অবৈধভাবে ইতালি-যাত্রা: দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের

মাদারীপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০: ১০
অবৈধভাবে ইতালি-যাত্রা: দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের
দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীব মীরের (ইনসেটে)। দিশেহারা স্বজন। ছবি: সংগৃহীত

তিন বছর আগে দালালের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ইতালি রওনা হয়েছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজীব মীর। কিন্তু তাঁকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দী করে নির্যাতন শুরু করে মানব পাচারকারী চক্র। এরপর মুক্তিপণ হিসেবে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হলেও গত দেড় বছর ধরে কোনো খোঁজ নেই তাঁর। এই অবস্থায় দিশেহারা তাঁর পরিবার।

গত ১১ জুলাই রাজীবের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ২৪ জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করেছেন।

জানা যায়, মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীর ও শিল্পী বেগমের ছেলে রাজীব মীর। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি ইতালি নেওয়ার শর্তে দালালের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজীবের পরিবার লোকমান ও তাঁর চক্রের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দেয়। এরপর ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট রাজীবকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।

লিবিয়ায় নেওয়ার পর রাজীবকে বন্দী করে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপরও মানব পাচার চক্রের সদস্যরা আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবারের লোকজনের অভিযোগ। রাজীব জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন, সে সম্পর্কেও তাঁরা কিছু জানেন না।

নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘দেড় বছর হয়ে গেল ছেলের কোনো সন্ধান নেই। কেঁদে কেঁদে চোখ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তবু ছেলের কোনো খোঁজ মিলছে না। জমি বিক্রি করে, ঋণ করে লাখ লাখ টাকা দালালদের দিয়েছি, তবু ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। দালালেরা সঠিক কোনো উত্তর দেয় না। তাই আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। যাতে আমার ছেলের সন্ধান দিতে পারে এবং দালালদের সঠিক বিচার চাই। তারা যেন এমন ঘটনা আর ঘটাতে না পারে।’

মামলার পর পুলিশ লোকমান হাওলাদার ও তাঁর মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে দুজনই কারাগারে আছেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা চলমান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত