Ajker Patrika

ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগ: বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ২৫
ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগ: বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের স্বাক্ষর জালের অভিযোগ এলি (ল্যান্ড) শাওন মজুমদারের। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল প্যাড জাল করে বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন।

মামলায় বরগুনা সদরের এসি ল্যান্ড শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এতে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তা শাওন মজুমদার ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর ও সংসদ সচিবালয়ের অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এই জাল নথি ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো স্থানে বদলির চেষ্টা চালান।

নথিপত্রে দেখা যায়, বরগুনা সদর থেকে শাওন মজুমদারকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। জাল করা ওই ডিও চিঠিতে তাঁর সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করার অনুরোধ করা হয়।

সংসদ সচিবালয় চিঠিটি পরীক্ষা করার পর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সংসদ সচিবালয় থেকে এমন কোনো চিঠি কখনোই ইস্যু করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া চিঠিটিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, লেখার ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের মূল অফিশিয়াল রেকর্ডের সঙ্গে মেলেনি। প্রতারণামূলকভাবে সরকারের পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়।

মামলার বাদী এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে একটি বিস্তৃত ও গভীর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিটির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজনদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

দণ্ডবিধির অধীন জালিয়াতি, ভুয়া নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া চিঠিটির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত লেটারহেড প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ জমা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত