
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষ্মা (টিবি) আক্রান্ত এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে হাসপাতালের রান্নাঘরে নিয়মিত যাতায়াত, রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের স্বাদ পরীক্ষা এবং রান্নার কাজ তদারকির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রান্নাঘরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে হাসপাতালের রোগীদের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রান্নার মসলা প্রস্তুতের টেবিলের পাশে কোনো মাস্ক ছাড়াই বসে আছেন যক্ষ্মা আক্রান্ত নূর ইসলাম। টেবিলের ওপর ঢাকনা ছাড়া রাখা ছিল পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মসলাবাটা। পাশেই দুই নারী কর্মী রোগীদের জন্য রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একই ঘরের মেঝেতে বসে ছিলেন এক মানসিক রোগী।
হাসপাতালে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নূর ইসলাম প্রায় ১৮ বছর ধরে রান্নার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, দুই মাস আগে পরীক্ষায় তাঁর যক্ষ্মা ধরা পড়ে। এরপর আর কোনো ফলোআপ করাননি। এ সপ্তাহে পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে। তাঁর দাবি, যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মাত্র এক মাসের ছুটি দেয়। ছুটি শেষে তিনি আবার কর্মস্থলে যোগ দেন।
নুর ইসলাম বলেন, ‘আমাকে আরএমও স্যার ও টিআইসি স্যার এখানে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। আমি এখন মোটামুটি সুস্থ।’
তবে সুস্থ হওয়ার কোনো মেডিকেল রিপোর্ট তিনি দেখাতে পারেননি।
রান্নাঘরের এক নারী কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা তো জানি যক্ষ্মা ছোঁয়াচে রোগ। তাই উনাকে দেখলে আমাদেরও ভয় লাগে। আমাদেরও পরিবার, স্বামী-সন্তান আছে। উনি রান্নাঘরে আসার বিষয়টি বহুবার আরএমও স্যারকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা মাস্ক পরতে বললেও অনেক সময় তিনি শোনেন না। উনি নিজেই রোগীদের জন্য রান্না করা ডাল, তরকারিসহ বিভিন্ন খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করেন। নিষেধ করলেও কথা শোনেন না।’
এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কেরামত আলী বলেন, ‘হ্যাঁ, নূর ইসলাম যক্ষ্মায় আক্রান্ত। তবে তিনি এখন রান্নার কাজ করছেন না। তাঁর পরিবর্তে একজন নারী কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হয়তো তিনি ওষুধ নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। রান্নাঘরে কারও সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুল বাশার বলেন, ‘যক্ষ্মা এমন কোনো রোগ নয় যে, চিকিৎসা নিলে ভালো হয় না। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাচ্ছেন। দুই মাস পার হয়েছে, তিনি এখন সুস্থ।’
এ বিষয়ে রংপুর সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানার সঙ্গে কথা বলতে তাঁর অফিশিয়াল মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা মারাত্মক সংক্রামক একটি রোগ। নিয়মিত ওষুধ খেলেও এটি পুরোপুরি ভালো হতে অন্তত ছয় থেকে আট মাস সময় লাগে। সঠিকভাবে যক্ষ্মার ওষুধ নিয়মিত খাওয়া শুরু করার ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ রোগীর সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে যদি ওষুধ নিয়মিত না খাওয়া হয়, ওষুধ প্রতিরোধী (ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট) যক্ষ্মা থাকে বা চিকিৎসায় সাড়া না মেলে, তাহলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি দীর্ঘদিন থাকতে পারে।
এ প্রসঙ্গে আইসিডিডিআরবির এসিটিবি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প সমন্বয়ক, ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘যক্ষ্মার চিকিৎসা শুরুর পর প্রথম ফলোআপ করতে হয় দুই মাস পর। এ সময় রোগীর ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করা হয়। এরপর আবার একমাস পর ফলোআপ করতে হয়। সাধারণত হাঁচি, কাশির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। তবে লালা বা থুথুর মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না। খাবারের মাধ্যমেও এটি ছড়ায় না। তাই যেসব রোগী হাসপাতালের রান্না খাবার খাচ্ছেন, তাঁদের ভয় না থাকলেও, যাঁরা ওই ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসছেন, তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে আছেন।’

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদীভাঙন রোধের দাবিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ শনিবার দুপুরে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব খোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা নদীতে গিয়ে বালু তোলায় ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও একটি নৌকা আটক করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
সভায় মূল বিষয়বস্তুর ওপর কি-নোট উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমনা গুপ্ত। সভায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব সুব্রত চৌধুরী....
৩ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর রেশমশিল্পের পরিচিতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন ‘রান ফর সিল্ক সিটি ২০২৬’। আজ শনিবার সকাল ৬টার দিকে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে ভদ্রা মোড়, তালাইমারী ও সাহেব বাজার হয়ে হজরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহের...
৩ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ফেসবুক-সংবাদপত্রের বাক্স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী দেশে মিথ্যাচার চালাচ্ছে। স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন মিথ্যাচার করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
৪ ঘণ্টা আগে