Ajker Patrika

বেরোবিতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নাম মুছে দিল শিক্ষার্থীরা

রংপুর প্রতিনিধি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বেরোবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম মুছে ফেলে ‘বিজয়-২৪’ লিখে দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের সামনে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের নাম মুছে ফেলে ‘মুক্ত মঞ্চ’ নাম লেখা হয়।

এরপর সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে যান। সেখানে অবস্থা নিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম গুড়িয়ে দিয়ে’ বেগম রোকেয়া হল’ ঘোষণা করা হয়। এরপর সেখান থেকে রাত মাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ম্যুলারের সামনে জড়ো হয় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে’ রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করা দাবি জানান। এ রিপোর্ট লেখা (১০টা ৫০ মিনিট) পর্যন্ত শিক্ষার্থী অবস্থা নিয়ে নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ফ্যাসিবাদের মূল হতো পালিয়ে গেলেও তাঁর দোসররা দেশে রয়েছে। আজ শেখ হাসিনা লাইভে আসার কথা। এতে করে ফ্যাসিসদের দোসরকে আবারও উজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দেশের পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এ জন্য ফ্যাসিবাদের চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এর আগে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাইভে বক্তব্য দেওয়ার ঘোষণা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশকে ‘ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি’ মুক্ত করার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে লোক এসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো শুরু করে।

আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেন, ‘আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গড়া স্থাপনার নাম মুছে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এরপর রাত ৮টার দিকে লোকজন স্লোগান দিয়ে ৩২ নম্বরের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা বাড়ির সর্বত্র উঠে ভাঙচুর চালানো শুরু করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

হাতিয়ার চর আতাউর

মেরামতের অভাবে চরে মিশে গেল দুই গুচ্ছগ্রাম

  • বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গুচ্ছগ্রাম দুটির ঘরগুলো মেরামত করা হয়নি।
  • ঘরগুলো নির্মাণের ছয় বছরের মধ্যে এখন তা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
ইসমাইল হোসেন কিরন,  হাতিয়া (নোয়াখালী)  
ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত গুচ্ছগ্রাম তরুবীথি ও ছায়াবীথি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত গুচ্ছগ্রাম তরুবীথি ও ছায়াবীথি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

শূন্য ভিটার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বসতঘরের অবকাঠামো। নেই বেড়া, ছাউনি। বৃষ্টির পানিতে ভিটার মাটি ধুয়ে সমতলে মিশে গেছে অনেক আগে। এসব ঘরে এখন আর মানুষ বসবাস করে না। এমন দৃশ্য নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চর আতাউরের গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলোর।

ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত এসব ঘরে একসময় ১০০টির মতো পরিবার বসবাস করত। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরের এসব ঘরের ঠাঁই পেয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল পরিবারগুলো। কিন্তু মেরামতের অভাবে ছয় বছরের ব্যবধানে ভূমিহীনদের সেই স্বপ্ন চরেই মিশে গেছে। বাধ্য হয়ে ঘরগুলোর বাসিন্দারা অন্যত্র গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন। তবে যাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা হয়নি, এমন ১৪-১৫টি পরিবার এখনো কোনোমতে এই ভাঙাচোরা ঘরেই বসবাস করছে।

জানা গেছে, বিগত সরকার ভূমিহীনের পুনর্বাসনের জন্য হাতিয়ার বিভিন্ন চরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে। তমরদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে চর আতাউরে ১২ একর জায়গায় ‘তরুবীথি’ ও ‘ছায়াবীথি’ নামের দুটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে এর কাজ শেষ হয়। প্রতিটি গুচ্ছগ্রামে ৫০টি করে এক শ ভূমিহীন পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতি ৫০ পরিবারের জন্য চারটি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং একটি পুকুর খনন করা হয়। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে একটি শৌচাগার, রান্নাঘর ও দুটি থাকার কক্ষ বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

লোহার পাতের ওপর টিন দিয়ে নির্মিত এসব ঘর ছয় বছরের মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একাধিকবার ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো বিধ্বস্ত হয়; যা পরে আর মেরামত করা হয়নি। ফলে পরিবারগুলো বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তরুবীথি গুচ্ছগ্রামের ৩১ নম্বর ঘরে বসবাস করছেন সুমা বেগম। ভাঙাচোরা ঘরের দরজা-জানালা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা। তাঁদের পূর্ব পাশে থাকা ঘরগুলো ভেঙে গেছে। এসব ভাঙা ঘরে বর্তমানে সাত-আটটি পরিবার বসবাস করছে।

সুমা বেগম জানান, অনেক আগে তাঁর ঘরবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। স্বামী ইটভাটার শ্রমিক। চার সন্তানকে নিয়ে ২০২০ সালের দিকে এই চরে বসবাস শুরু করেন। সরকারিভাবে তাঁদের এই গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন বছর যেতে না যেতে তাঁদের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে পড়ে। ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে যায়। সেগুলো কোনোমতে দড়ি দিয়ে তা বেঁধে রেখে বসবাস করছেন।

পাশেই ছায়াবীথি গুচ্ছগ্রাম। এখানে ৫০টি পরিবারের মধ্যে বসবাস করছে মাত্র ৭টি। অন্য ঘরগুলোতে দরজা, জানালা, বেড়া—কিছুই নেই। সেগুলোতে কেউ আর বসবাসও করেন না।

ছায়াবীথির ৩৯ নম্বর ঘরে বসবাস করেন নিখি রানী দাস। স্বামী মৌসুমি শ্রমিক। নিখি রানী জানান, পরিবার নিয়ে পাঁচ বছর ধরে এই চরে বসবাস করে আসছেন তিনি। ঘরগুলো নদীর তীরে এবং পাশে কোনো গাছপালা নেই। ফলে সামান্য ঝড়ে এসব ঘর ভেঙে যায়।

নিখি রানী বলেন, ‘এই চরে আসার আগে আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। ভূমিহীন পরিবারগুলোকে জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তার কোনোটি করা হয়নি। ঘর ভেঙে পড়লেও সরকারিভাবে মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় আমরা এখানেই কোনোমতে আছি।

চর আতাউরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণেরও আগে সেখানে বসবাস করে আসছেন জানিয়ে খোকন মাঝি বলেন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যে এসব ঘর ভেঙে পড়ে। গুচ্ছগ্রাম দুটিতে মানুষের ব্যবহারের জন্য দুটি পুকুর খনন করা হলেও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে তা সমতল হয়ে গেছে।’

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘চর আতাউরে গুচ্ছগ্রাম দুটিতে অনেক অসহায় মানুষ বসবাস করছে। এসব পরিবারকে শীতবস্ত্র, ত্রাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁদের জন্য একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ঘরগুলো মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

জলাতঙ্কের টিকা নেই হয়রান রোগীরা

  • সদর হাসপাতালে সাঁটানো বিজ্ঞপ্তি, নিজ দায়িত্বে টিকা সংগ্রহের পরামর্শ।
  • হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা, অনেকে ছুটছেন বিভাগীয় শহরে।
সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের জলাতঙ্ক ইউনিটের দরজায় তালা ঝুলিয়ে সাঁটানো একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইনজেকশন-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন’ এবং ‘ইনজেকশন-আরআইজি’ সরকারি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে রোগীদের নিজ দায়িত্বে টিকা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ সংকট। শুধু হাসপাতালে নয়, পুরো জেলা শহরে এই টিকার অভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগের টিকার অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রতিদিন অনেকে কুকুর-বিড়ালের কামড় নিয়ে হাসপাতালে আসছেন; কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। শহরের ফার্মেসিগুলোতেও টিকা পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে ১৪ হাজার ৩৩৩ ভায়াল অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) দেওয়া হয়েছে; কিন্তু আরআইজি টিকার কোনো সরবরাহ ছিল না।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মঞ্জুরুল ইসলাম টিকার সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এত দিন সিডিসি (অপারেশন প্ল্যান) থেকে টিকা সরবরাহ করা হতো। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার সিএমডিসির মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কবে আসবে, তা নিশ্চিত নয়।’

হাসপাতালের জলাতঙ্ক কেন্দ্রের স্টাফ নার্স লুবনা আক্তার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কোথাও টিকা নেই। অনেকে বিকল্প হিসেবে রংপুর থেকে নিয়ে আসছেন।

ঠাকুরগাঁও শহরের বাসিন্দা বশির উদ্দিন বলেন, ‘সকালে বাজারে যাওয়ার পথে রাস্তায় কুকুরে কামড় দিয়েছে। হাসপাতালে এসে দেখি টিকা নেই। বিজ্ঞপ্তি দেখে ভয় লেগে গেল। এখন কী করব? জলাতঙ্ক হলে তো মরণ নিশ্চিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি রংপুর যাওয়ার চেষ্টা করছি; কিন্তু যাতায়াতের খরচ আর সময়—সব মিলিয়ে খুব কষ্ট।’

হাসপাতালের প্রধান ফটকে থাকা একটি ফার্মেসির স্টাফ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সরবরাহ থাকায় কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ সরকারি লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের স্টকও শূন্য। গত সপ্তাহে অনেক রোগী এসেছেন; কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না। এখন রংপুর বা দিনাজপুর থেকে আনার চেষ্টা করছি; কিন্তু দাম বেড়ে গেছে।’

শহরের আরেকটি ফার্মেসির মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘জলাতঙ্কের টিকা তো দূরের কথা, এখন কোনো স্টকই নেই। সরকারি হাসপাতালে বন্ধ হওয়ার পর থেকে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। আমরা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাঁরা বলছে সরকারি অর্ডার না এলে উৎপাদন বাড়াবে না। এটা একটা বড় সমস্যা।’

ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে টিকা না পেয়ে আমি সকালে রংপুর গিয়েছিলাম। সেখানকার একটা ফার্মেসি থেকে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে এনেছি। যাতায়াতে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে, টিকার দাম ১ হাজার টাকা। কিন্তু কী করব? জীবন তো বাঁচাতে হবে। অনেকে এভাবে যাচ্ছেন, কিন্তু সবার পক্ষে সম্ভব নয়।’

মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কথা হয় সদর উপজেলার সেলিনা বেগমের সঙ্গে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। বলেন, ‘আমি তো গরিব মানুষ, রংপুরে যামু কী দিয়া? অত টাকা ভাড়াই-বা কই পামু আর যেতে আসতে তো সারা দিন শ্যাষ।’

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রকিবুল আলম চয়ন বলেন, কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো বন্য প্রাণী কামড় দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিতে হয়। তবে যত দ্রুত টিকা দেওয়া যায়, রোগীর জন্য তত মঙ্গল। দেরি হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

বিএনপির ৯ জন খুন দুই নেতার বিরোধে

সবুর শুভ, চট্টগ্রাম    
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের রাউজানে রাজনৈতিক খুনোখুনি থামছেই না। গত ১৬ মাসে উপজেলায় খুন হয়েছেন ১৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং একজন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী। এই দুই নেতাই চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও রক্ত ঝরার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চট্টগ্রামের রাউজানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী নিহত হন। আর বিএনপি-যুবদলের নিহত হন ৯ জন। পুলিশ সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মাটি-বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হানাহানির ঘটনা ঘটছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র।

এমন আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ গত সোমবার মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৮) খুন হন। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি ওই ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ওই দিন মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে মোহাম্মদ জানে আলম সিকদারকে গুলি করে।

এ বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, ‘দলের প্রতিপক্ষের লোকজন জানে আলম সিকদারকে হত্যা করেছে।’

পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারকে কেন্দ্র করে রাউজানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভক্ত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দুজনকেই প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ কে পাবেন, তা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে। এ নিয়ে আরও খুনোখুনির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, রাউজানে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সর্বশেষ জানে আলমকে খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শিগগির গ্রেপ্তার করা হবে।

জানে আলম খুন হওয়ার আগে রাউজানে সর্বশেষ খুনের ঘটনা ঘটেছে গত ২৫ অক্টোবর। ওই দিন মুহাম্মদ আলমগীর আলম (৪৫) নামের যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে খুন করা হন। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এই আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তথ্যমতে, পটপরিবর্তনের দিন চট্টগ্রাম শহরের ৮টি থানা ও ৮টি ফাঁড়ি থেকে ৯৪৫টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৭৮০টি অস্ত্র। আর ১৬৫টি অস্ত্র এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে। এসব অস্ত্র ভোটের মাঠে ব্যবহার হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে হলে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যাতে ভোটাররা ভয়হীন পরিবেশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। একই সঙ্গে ভোটের মাঠে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ ভারতীয় নাগরিক আটক, বিএসএফের কাছে হস্তান্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ফেরত। ছবি: সংগৃহীত
আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ফেরত। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাঁদের উদ্ধার করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে।

১৬ বিজিবির রোকনপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের চাড়ালডাঙ্গা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২১৯ আরএস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পূর্ণভবা নদীতে মাছ ধরতে আসে ভারতের মালদা জেলার হবিপুর থানাধীন টিলাশন গ্রামের বাচ্ছু মহলদার (৩৫) ও রাজু মহলদার (২২)।

এ সময় বাংলাদেশের গোমস্তাপুর উপজেলার বেগপুর গ্রামের আব্দুল মমিন (৩০) ও সুমন খান (৩২) মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ওই দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বেগপুর গ্রামে নিয়ে যান।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে টিলাশন বিএসএফ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ চাড়ালডাঙ্গা বিওপিকে অবহিত করে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশে বিজিবি দ্রুত অভিযান চালিয়ে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে।

আজ বিকেল সোয়া ৫টায় চাড়ালডাঙ্গা সীমান্তে আয়োজিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত