Ajker Patrika

রমেকের অনিয়ম দূর করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানালেন ত্রাণমন্ত্রী

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০০
রমেকের অনিয়ম দূর করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানালেন ত্রাণমন্ত্রী
রমেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এক দিনে দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তবে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালটিকে সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ লক্ষ্যে আইসিইউ বেড বৃদ্ধি, হাসপাতালজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ক্যাম্প চালু, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের জঞ্জাল, অনিয়ম-দুর্নীতি এক দিনে পরিষ্কার করা যাবে না। সবার সহযোগিতা পেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালকে মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আইসিইউ বাড়ছে, সার্বক্ষণিক অপারেশনের উদ্যোগ

ত্রাণমন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের বিদ্যমান ১০টি আইসিইউ বেডের সঙ্গে আরও ১০টি যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের জন্য কেবিনে সহকারী থাকার ব্যবস্থা করা হবে। অ্যানেসথেশিয়া সংকট দূর করে সার্বক্ষণিক অপারেশন চালু রাখতে প্রয়োজনীয় জনবলও নিশ্চিত করা হবে।

অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণে কমিটি

অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহ পরিবহনে সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মাইলেজ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে এবং চালানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য মালিক, চালক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এক মাসে সিসি ক্যামেরা, সাত দিনে পুলিশ ক্যাম্প

হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো হাসপাতালকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরে উচ্চক্ষমতার আলোর ব্যবস্থা এবং একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও কন্ট্রোল রুম চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ প্রবেশপথ বন্ধ এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।

এর আগে আজ সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি রংপুর নগরীর জিলা খাল ও কেডি খাল পরিদর্শন করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত