
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ।
কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে।
চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে।
অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’
তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’
রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর।
রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।

দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মতো গ্যাস-সংকটে ভুগছে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ ৬০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। ফলে গত দুই সপ্তাহে নরসিংদীর কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
৩৫ মিনিট আগে
আমন মৌসুম শুরু হয়েছে। কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করছেন। বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও চারা রোপণও শুরু হয়েছে। তবে কৃষকেরা সারের দোকানে গিয়ে সার পাচ্ছেন না। ডিলাররা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বিসিআইসি ও বিএডিসি তাঁদেরকে সার সরবরাহ করছে না।
১ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নগরীর পাঁচটি এলাকায় এডিস মশার প্রজনন নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে ব্রেটো সূচক ৬১ দশমিক ৩৩ পাওয়া গেছে, যেখানে ২০-এর বেশি সূচককে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
নান্দাইল-হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। ভাঙাচোরা আর অপ্রশস্ত সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে তাঁদের।
১ ঘণ্টা আগে