Ajker Patrika

রংপুরের বদরগঞ্জ: গুদামে নষ্ট হচ্ছে জব্দ চাল, ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ

  • মামলা হলে গুদাম কর্মকর্তা ও খাদ্যনিয়ন্ত্রকও ফেঁসে যেতে পারেন।
  • চালগুলো নিজের কেনা, দাবি অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর।
  • বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইউএনও
আশরাফুল আলম আপন, বদরগঞ্জ (রংপুর)
আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ২৩
রংপুরের বদরগঞ্জ: গুদামে নষ্ট হচ্ছে জব্দ চাল, ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ
ফাইল ছবি

রংপুরের বদরগঞ্জে প্রায় এক বছর আগে জব্দ করা ১৮৩ বস্তা সরকারি চাল গুদামে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রককে একাধিকবার অভিযুক্ত চাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তা হয়নি। পাঁচ মাস আগে ইউএনও বদলি হলে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। এদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর গুদামে অবাধ যাতায়াত ও চাল রদবদলের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জানা গেছে, গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে গত বছরের ২০ মে বদরগঞ্জ সরকারি গুদাম থেকে টলিতে ১৫৬ বস্তা চাল পাচার করে মধুপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘরা এলাকার চাল ব্যবসায়ী বাপ্পী সাহার গদিঘরে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় গদিঘরের উঠানে ট্রলিভর্তি চাল আটক করেন ছাত্র সমন্বয়ক ও এলাকাবাসী। ওই সময়ে ইউএনও মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে গুদামের সিলমোহরযুক্ত ১৫৬ বস্তা চাল জব্দ করেন। পরদিন আবারও ইউএনও অভিযান চালিয়ে ওই গদিঘরের ভেতর থেকে সরকারি গুদামের সিলমোহরযুক্ত ২৭ বস্তা চাল জব্দ করেন। দুই দিনে জব্দ করা ১৮৩ বস্তা চাল সরকারি গুদামে জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা না হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন অসাধু চাল ব্যবসায়ী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালকলমালিক আজকের পত্রিকাকে জানান, ওই চাল ব্যবসায়ীর নামে মামলা হলে ফেঁসে যেতে পারেন গুদামের কর্মকর্তা ও খাদ্যনিয়ন্ত্রক। এ কারণে খাদ্য বিভাগ মামলা করতে টালবাহানা করছে। তাঁরা বলেন, ‘ওই চাল ব্যবসায়ীর চালের দোকান গুদামসংলগ্ন এলাকায়। এ কারণে অধিকাংশ সময়ে তিনি পড়ে থাকেন গুদামে। তাঁর মাধ্যমে গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক আর্থিক সুবিধা নিয়ে গুদামের ভালো চাল বাইরে পাচার করে খারাপ চাল ঢোকাচ্ছেন। এ কারণে গুদামের কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন চাল ব্যবসায়ী বাপ্পী।’

তবে চাল ব্যবসায়ী বাপ্পী সাহা বলেন, ‘ওই চাল আমার কেনা। কিন্তু ইউএনও আমার কোনো কথা না শুনে চালগুলো গুদামে নিয়ে এসেছেন।’

গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) রায়হান কবির বলেন, ‘চালগুলো প্রায় এক বছর ধরে গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। মামলা না হওয়ায় এ চালগুলোর কোনো সুরাহা হচ্ছে না।’ তবে তিনি ওই চাল ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা এবং তাঁর মাধ্যমে গুদামের ভালো চাল রদবদলের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিং বলেন, ‘ওই চাল ব্যবসায়ীর নামে মামলা করতে ইউএনও আমাকে বলেছিলেন। কিন্তু চালগুলো বাস্তবে ওই ব্যবসায়ীর কেনা। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করিনি।’

মুঠোফোনে তৎকালীন ইউএনও মিজানুর বলেন, ‘গদিঘর থেকে গুদামের সরকারি সিলমোহরযুক্ত চালের বস্তাগুলো জব্দ করে খাদ্যনিয়ন্ত্রককে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু তিনি মামলা করেননি।’ এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘চালগুলো ব্যক্তিগত, না সরকারের—তা আদালতে প্রমাণ হবে। কিন্তু খাদ্যনিয়ন্ত্রকের মামলা করতে সমস্যা কোথায়?’

বর্তমান ইউএনও আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘আমার এখানে আসার পাঁচ মাস হলো। কিন্তু ওই চাল সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি জানা নেই। দু-এক দিনের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার মিটিং হবে। সেখানে এ নিয়ে জানতে চাইব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত