কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১৪ জনকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে এই উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় সীমান্তের ভারতীয় অংশে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জামালপুর বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধীন রৌমারী বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের কেউ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। জামালপুর বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দার সাইফুল ইসলাম নামের একজনের সঙ্গে কথা হয়। সাইফুল বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতের আসাম রাজ্যের মাইনকারচর কাকড়িপাড়া সীমান্ত পথে বিএসএফ ১৪ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। বিজিবি ও স্থানীয়রা খবর পেয়ে বিএসএফকে বাধা দেয়। এ সময় বিজিবি ওই নারী-পুরুষদের ভারতীয় সীমান্তে ফেরত দিতে চাইলে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে বিএসএফ রাবার বুলেট ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।’
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএসএফ সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য জড়ো করেছে। আমরাও বিজিবিসহ সীমান্তে অবস্থান করছি। তাঁরা অন্যায়ভাবে ভারতের নাগরিকদের আমাদের দেশে ঠেলে দিচ্ছে।’
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। তাঁরা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা চলছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঠেলে দেওয়া নারী-পুরুষ সবাই ভারতীয় বলে জানা গেছে।’
রুহুল আমিন আরও বলেন, ‘আমি এবং বিজিবির সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে গিয়ে বিএসএফকে ঠেলে দেওয়া নারী-পুরুষদের ফেরত নিতে বলি। কিন্তু তাঁরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় বিএসএফ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরে আমরা নিরাপদে সরে এসেছি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রৌমারী উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক শাহারিয়ার নাজিম বলেন, ‘বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ১৪ নারী-পুরুষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে ধরে নিয়ে প্রথমে স্থানীয় একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে মঙ্গলবার ভোরের দিকে বড়াইবাড়ী সীমান্তপথের গেট খুলে সীমান্ত পাড় করে দেয় বিএসএফ। এ নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। বাংলাদেশে অংশে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও জড়ো হয়েছেন।’
বিএসএফের ঠেলে দেওয়া নারী-পুরুষদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক। আমার বাড়ি আসামের মরিগাঁও জেলায়। সেখানে আমি সিপি (প্রাইমারি) স্কুলশিক্ষক। আমার আদি পুরুষ ভারতীয়। আমার মাটি-বাড়ি সব ভারতে। আমার মা ও ভাই সেখানের ওয়ার্ড মেম্বার। গত ২৩ মে আমাকে ধরে এসপি অফিসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে নেয়। বিএসএফ ভোরে আরও ১৩ জনসহ আমাকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়।’
খাইরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আসতে চাইনি বলে আমাকে মারধর করা হয়। আসার সময় হাতে ২০০ টাকা, খাবারের প্যাকেট ও একটি পানির বোতল ধরিয়ে দিছে।’
সকাল পৌনে ১০টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া ১৪ নারী-পুরুষ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ওপারে বিএসএফ অতিরিক্ত সৈন্য জড়ো করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।
২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল বড়াইবাড়ী গ্রামের সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে বিএসএফের ১৬ জন সৈন্য নিহত হন এবং বাংলাদেশের তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (এখন বিজিবি) দুজন সৈন্য নিহত হন।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১৪ জনকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে এই উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় সীমান্তের ভারতীয় অংশে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জামালপুর বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধীন রৌমারী বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের কেউ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। জামালপুর বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দার সাইফুল ইসলাম নামের একজনের সঙ্গে কথা হয়। সাইফুল বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতের আসাম রাজ্যের মাইনকারচর কাকড়িপাড়া সীমান্ত পথে বিএসএফ ১৪ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। বিজিবি ও স্থানীয়রা খবর পেয়ে বিএসএফকে বাধা দেয়। এ সময় বিজিবি ওই নারী-পুরুষদের ভারতীয় সীমান্তে ফেরত দিতে চাইলে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে বিএসএফ রাবার বুলেট ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।’
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএসএফ সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য জড়ো করেছে। আমরাও বিজিবিসহ সীমান্তে অবস্থান করছি। তাঁরা অন্যায়ভাবে ভারতের নাগরিকদের আমাদের দেশে ঠেলে দিচ্ছে।’
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। তাঁরা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা চলছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঠেলে দেওয়া নারী-পুরুষ সবাই ভারতীয় বলে জানা গেছে।’
রুহুল আমিন আরও বলেন, ‘আমি এবং বিজিবির সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে গিয়ে বিএসএফকে ঠেলে দেওয়া নারী-পুরুষদের ফেরত নিতে বলি। কিন্তু তাঁরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় বিএসএফ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরে আমরা নিরাপদে সরে এসেছি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রৌমারী উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক শাহারিয়ার নাজিম বলেন, ‘বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ১৪ নারী-পুরুষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে ধরে নিয়ে প্রথমে স্থানীয় একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে মঙ্গলবার ভোরের দিকে বড়াইবাড়ী সীমান্তপথের গেট খুলে সীমান্ত পাড় করে দেয় বিএসএফ। এ নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। বাংলাদেশে অংশে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও জড়ো হয়েছেন।’
বিএসএফের ঠেলে দেওয়া নারী-পুরুষদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক। আমার বাড়ি আসামের মরিগাঁও জেলায়। সেখানে আমি সিপি (প্রাইমারি) স্কুলশিক্ষক। আমার আদি পুরুষ ভারতীয়। আমার মাটি-বাড়ি সব ভারতে। আমার মা ও ভাই সেখানের ওয়ার্ড মেম্বার। গত ২৩ মে আমাকে ধরে এসপি অফিসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে নেয়। বিএসএফ ভোরে আরও ১৩ জনসহ আমাকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়।’
খাইরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আসতে চাইনি বলে আমাকে মারধর করা হয়। আসার সময় হাতে ২০০ টাকা, খাবারের প্যাকেট ও একটি পানির বোতল ধরিয়ে দিছে।’
সকাল পৌনে ১০টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া ১৪ নারী-পুরুষ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ওপারে বিএসএফ অতিরিক্ত সৈন্য জড়ো করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।
২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল বড়াইবাড়ী গ্রামের সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে বিএসএফের ১৬ জন সৈন্য নিহত হন এবং বাংলাদেশের তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (এখন বিজিবি) দুজন সৈন্য নিহত হন।

রাজধানী থেকে টেলিগ্রামভিত্তিক প্রতারণা চক্রের পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
১২ মিনিট আগে
পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ‘মাছের মেলা’ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে শতবর্ষী এই মেলা বসেছে। চলবে আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত।
৩৯ মিনিট আগে
মাদারীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও দুজন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুরের তাঁতিবাড়ি এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
৪৩ মিনিট আগে
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে তালুকদার ও খান পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
১ ঘণ্টা আগে