Ajker Patrika

রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি, চাহিদামতো মিলছে না তেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি, চাহিদামতো মিলছে না তেল
ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে জড়ো হয়েছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিভাগের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চালকেরা। তেল না থাকায় কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যগুলো থেকে অল্প অল্প তেল দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় সব মিলিয়ে ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তিন দিন ধরে এসব ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে।

উত্তরের জেলা রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশনে তেলসংকটের বিষয়টি সামনে আসে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। সেদিন রাজশাহী শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকারদের চাহিদামতো তেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ বা কোনোটিতে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া শুরু করা হয়। আজ শুক্রবারও একই অবস্থা দেখা গেছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা গোলাম রসুল বলেন, গতকাল রাতে তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি এক হাজার টাকার পেট্রল নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে একটি ফিলিং স্টেশনে ৫০০ টাকার ও দুটি থেকে ২৫০ টাকার করে তেল নিয়েছেন তিনি। কোথাও চাহিদামতো তেল পাননি।

আজ সকালেও রাজশাহী নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি দেখা যায়। রুয়েট এলাকায় নয়ান ফিলিং স্টেশনে কথা হয় মোটরসাইকেলচালক সবুজ আহমেদের সঙ্গে। সবুজ জানান, সারাক্ষণই তাঁর বাইক লাগে। তাই পাম্পে পাম্পে ঘুরে তিনি ট্যাংক ভর্তি করছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। তাই চাহিদামতো তেল বিক্রিও করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলোতে তেল আছে, তারা সবাইকেই অল্প অল্প করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আতঙ্কে মানুষের মধ্যেও তেল কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। অবস্থা এমন—বাইক সেভাবে চালানই না, তিনিও এসে হাজার টাকার তেল চাচ্ছেন। আবার যাঁরা বেশি বাইক চালান, তাঁরা পাম্পে পাম্পে ঘুরে ট্যাংক ফুল করে বাড়িতে ঢেলে আসছেন। তারপর আবার তেল তুলছেন। মানুষের এই আতঙ্কের কারণে সংকটটা আরও বেশি করে বোঝা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা জানাতে পারেননি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা আব্দুল জলিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত