নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

আব্রাহাম লিংকনের হাতে একটিই সিরিঞ্জ। সেই সিরিঞ্জ দিয়েই একের পর এক ছাগলকে টিকা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ছাগলকে টিকা দেওয়ার পর ওই একই সিরিঞ্জ দিয়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে ভেড়াকেও। গত শুক্রবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুরহাট এলাকায় উত্তরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এমন দৃশ্য দেখা গেল।
সেখানে ‘ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগের ফ্রি ভ্যাকসিনেশন’ ক্যাম্পেইন চলছিল। পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় গত ১ অক্টোবর থেকে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ছাগল-ভেড়াকে টিকা দেওয়ার পর ওই একই সিরিঞ্জ অন্য ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে সেসব প্রাণীর রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ দিনের এই টিকাদান কর্মসূচিতে জেলার সাড়ে ১৩ লাখ ছাগল-ভেড়াকে পিপিআর টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পিপিআর ছাগল-ভেড়ার একটি মরণঘাতী রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর মুখ থেকে হলুদে এক ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হতে দেখা দেয়। ছাগলের জ্বর আসে, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হয়। এই রোগে ছাগল-ভেড়ার মৃত্যুহার ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ। প্রাণী স্বাস্থ্যের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশকে পিপিআর মুক্তকরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে বাংলাদেশে পিপিআর টিকা প্রয়োগ চলছে।
গত শুক্রবার সকালে গোদাগাড়ীর উত্তরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পিপিআর টিকাদান কর্মসূচি চলছে। সকালে মাইকিং শুনে আশপাশের এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা দলে দলে ছাগল-ভেড়া নিয়ে স্কুলের সামনে আসছেন। এরপর ভ্যাকসিন ভলান্টিয়ার মতিউর রহমান একটি কাগজে ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা, মালিক ও গ্রামের নাম এবং মোবাইল নম্বর লিখে নিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কৃত্রিম প্রজনন কর্মী আব্রাহাম লিংকন এক সিরিঞ্জেই একের পর এক ছাগল-ভেড়াকে পিপিআর টিকা দিয়ে যাচ্ছেন।
এই টিকা পেয়ে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিদিরপুর লাইনপাড়া গ্রামের ময়না বেগম বললেন, ‘মায়ে-ছায়ে আমার ছডা ছাগল। সকালে মাইকিং শুইন্যা সবগুলানোক আননু। বিনা টাকায় ভ্যাকসিন দিল। এবারই প্রথম আমি আমার ছাগলগুলাক এই ভ্যাকসিন দিনু।’
একই সিরিঞ্জ সব ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে টিকাদানকর্মী আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘এতে কোনো সমস্যা নাই। আমরা এভাবেই দিচ্ছি। একদিনে আমরা দুটি করে ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন করছি। এক সিরিঞ্জ ব্যবহার করা যাবে না— এটা তো আমাদের স্যারেরা বলেনি। অতিরিক্ত সিরিঞ্জেরও বরাদ্দ নাই। তাই আমরা একটাই ব্যবহার করছি।’
জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন সর্দার বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই উচিত না। এক সিরিঞ্জ অনেক ছাগল-ভেড়াকে টিকা দিতে ব্যবহার করলে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ছাগল ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ক্ষুরা রোগের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত থাকলে ওই সিরিঞ্জের মাধ্যমেই পরের ছাগল-ভেড়ায় রোগ ছড়িয়ে পড়বে। তাই একটি সিরিঞ্জ একটি ছাগল-ভেড়ার শরীরেই ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো একটি সিরিঞ্জই অসংখ্যবার ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিবার ব্যবহারের আগে সিরিঞ্জটিকে গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।’
তবে টিকাদান ক্যাম্পেইনে গরম পানিতে সিরিঞ্জ জীবাণুমুক্ত করতে দেখা যায়নি। একের পর এক ছাগল-ভেড়াকে টিকা দিতে ভীষণ ব্যস্ততা দেখা গেছে টিকাদানকর্মীকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ‘এটা উচিত না। একাধিক ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে একটি সিরিঞ্জই ব্যবহার করলে সংক্রামক ব্যাধি একটি থেকে অন্যটিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
প্রাণিসম্পদ বিভাগেরই পিপিআর টিকাদান কর্মসূচিতে এভাবে একটি সিরিঞ্জই জীবাণুমুক্ত না করে বারবার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে আমাদের তো পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ সরবরাহ করার কথা। এটা নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না।’
তিনি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নম্বরে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেননি।

আব্রাহাম লিংকনের হাতে একটিই সিরিঞ্জ। সেই সিরিঞ্জ দিয়েই একের পর এক ছাগলকে টিকা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ছাগলকে টিকা দেওয়ার পর ওই একই সিরিঞ্জ দিয়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে ভেড়াকেও। গত শুক্রবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুরহাট এলাকায় উত্তরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এমন দৃশ্য দেখা গেল।
সেখানে ‘ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগের ফ্রি ভ্যাকসিনেশন’ ক্যাম্পেইন চলছিল। পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় গত ১ অক্টোবর থেকে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ছাগল-ভেড়াকে টিকা দেওয়ার পর ওই একই সিরিঞ্জ অন্য ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে সেসব প্রাণীর রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ দিনের এই টিকাদান কর্মসূচিতে জেলার সাড়ে ১৩ লাখ ছাগল-ভেড়াকে পিপিআর টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পিপিআর ছাগল-ভেড়ার একটি মরণঘাতী রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর মুখ থেকে হলুদে এক ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হতে দেখা দেয়। ছাগলের জ্বর আসে, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হয়। এই রোগে ছাগল-ভেড়ার মৃত্যুহার ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ। প্রাণী স্বাস্থ্যের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশকে পিপিআর মুক্তকরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে বাংলাদেশে পিপিআর টিকা প্রয়োগ চলছে।
গত শুক্রবার সকালে গোদাগাড়ীর উত্তরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পিপিআর টিকাদান কর্মসূচি চলছে। সকালে মাইকিং শুনে আশপাশের এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা দলে দলে ছাগল-ভেড়া নিয়ে স্কুলের সামনে আসছেন। এরপর ভ্যাকসিন ভলান্টিয়ার মতিউর রহমান একটি কাগজে ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা, মালিক ও গ্রামের নাম এবং মোবাইল নম্বর লিখে নিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কৃত্রিম প্রজনন কর্মী আব্রাহাম লিংকন এক সিরিঞ্জেই একের পর এক ছাগল-ভেড়াকে পিপিআর টিকা দিয়ে যাচ্ছেন।
এই টিকা পেয়ে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিদিরপুর লাইনপাড়া গ্রামের ময়না বেগম বললেন, ‘মায়ে-ছায়ে আমার ছডা ছাগল। সকালে মাইকিং শুইন্যা সবগুলানোক আননু। বিনা টাকায় ভ্যাকসিন দিল। এবারই প্রথম আমি আমার ছাগলগুলাক এই ভ্যাকসিন দিনু।’
একই সিরিঞ্জ সব ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে টিকাদানকর্মী আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘এতে কোনো সমস্যা নাই। আমরা এভাবেই দিচ্ছি। একদিনে আমরা দুটি করে ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন করছি। এক সিরিঞ্জ ব্যবহার করা যাবে না— এটা তো আমাদের স্যারেরা বলেনি। অতিরিক্ত সিরিঞ্জেরও বরাদ্দ নাই। তাই আমরা একটাই ব্যবহার করছি।’
জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন সর্দার বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই উচিত না। এক সিরিঞ্জ অনেক ছাগল-ভেড়াকে টিকা দিতে ব্যবহার করলে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ছাগল ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ক্ষুরা রোগের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত থাকলে ওই সিরিঞ্জের মাধ্যমেই পরের ছাগল-ভেড়ায় রোগ ছড়িয়ে পড়বে। তাই একটি সিরিঞ্জ একটি ছাগল-ভেড়ার শরীরেই ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো একটি সিরিঞ্জই অসংখ্যবার ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিবার ব্যবহারের আগে সিরিঞ্জটিকে গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।’
তবে টিকাদান ক্যাম্পেইনে গরম পানিতে সিরিঞ্জ জীবাণুমুক্ত করতে দেখা যায়নি। একের পর এক ছাগল-ভেড়াকে টিকা দিতে ভীষণ ব্যস্ততা দেখা গেছে টিকাদানকর্মীকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ‘এটা উচিত না। একাধিক ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে একটি সিরিঞ্জই ব্যবহার করলে সংক্রামক ব্যাধি একটি থেকে অন্যটিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
প্রাণিসম্পদ বিভাগেরই পিপিআর টিকাদান কর্মসূচিতে এভাবে একটি সিরিঞ্জই জীবাণুমুক্ত না করে বারবার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে আমাদের তো পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ সরবরাহ করার কথা। এটা নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না।’
তিনি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নম্বরে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেননি।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
৩ মিনিট আগে
মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে পাচারের অপেক্ষায় জড়ো করে রাখা হয়েছে অন্তত ৭ হাজার বার্মিজ গরু। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশে অন্তত ৫০০ গরু ঢুকিয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ঘিরে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র। আর গত পাঁচ দিনে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি জব্দ করেছে বিজিবি সদস্যরা।
৫ মিনিট আগে
কুমিল্লায় নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরশায়িত হলেন র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সদর উপজেলার কালিবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, এত টাকা খরচ করে পদ্মা সেতু না বানিয়ে যদি ইরিগেশনে ব্যয় করা যেত, চালের দাম পাঁচ টাকা কমে যেত। আজ চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে গেছে পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতে কী লাভ হলো অর্থনীতিতে?
১ ঘণ্টা আগে