
রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক এক রিকশাচালক হত্যা মামলার আসামি। তিনি জামিন নেননি। পুলিশও গ্রেপ্তার করেনি। গতকাল শনিবার রাতে একটি ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ভবনটি ঘিরে ফেলে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ সরে যায়। এর ৫৫ মিনিট পর নেতা-কর্মীরা মীর তারেককে বের করে নিয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে মীর তারেক এক ভবনের ছাদ থেকে আরেক ভবনের ছাদে লাফ দিয়েছেন। এতে তাঁর ডান পা ভেঙে গেছে। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজনেরও একই অবস্থা। গতকাল রাতের এই ঘটনা রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। এখন পুলিশ বলছে, যে আসামিকে পুলিশ ধরতে গিয়েছিল, তিনি সেখানে ছিলেন না। তাই পুলিশ ফিরে এসেছে। মীর তারেক ভুল বুঝেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে নগরের বোয়ালিয়া থানার নিউমার্কেট এলাকায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাসের বাসায় অবস্থান করছিলেন মীর তারেক। রাত পৌনে ১১টায় মহানগর ডিবি পুলিশের একটি দল ছয়তলা ভবনটি ঘিরে ফেলে। তখনই আসাসের বাসার ছাদ থেকে পাশের ভবনের ছাদে লাফ দেন মীর তারেক। এরপর তিনি ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দেন। লেখেন, ‘আসাসের বাসায় আমি। ডিবি ঘিরে নিয়েছে। সবাই আসো।’
এরপরই নেতা-কর্মীরা গিয়ে ভবনের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন। তখন ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে দাঁড়িয়ে সবই দেখছিলেন মীর তারেক। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভও করছিলেন।
লাইভে মীর তারেক বলেন, ‘এই দেশের আইনশৃঙ্খলাকে আমি ঘৃণা জানাই। আজ নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে। ইলিয়াস আলীকে আমরা পাইনি। চৌধুরী আলমকে পাইনি। আজকে আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করে আমাদের গ্রেপ্তার করার জন্য এসেছে। আমি বলছি, পুলিশ যখনই ডাকবে, আমি যাব, কিন্তু এইভাবে গ্রেপ্তার করতে আসতে পারে না।’
রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ডিবি পুলিশের পাশাপাশি থানা থেকেও পুলিশের একটি দল এসেছে। যে ভবনের ছাদে তারেক, সেটির সামনেই তারা দাঁড়িয়ে আছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিচ্ছেন—‘তারেক ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। তাঁরা পুলিশের বিরুদ্ধেও নানা স্লোগান দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর লাঠি (ব্যাটন) হাতে আসে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি)। কিছুক্ষণের জন্য তখন সেখানে থমথমে পরিস্থিতি। আশপাশে পুলিশের আটটি গাড়ি।
কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। পুলিশ ধীরে ধীরে ভবনের সামনে থেকে দক্ষিণ দিকে অলোকার মোড়ের দিকে সরে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গাড়িতে উঠে তারা চলে যায়। তখন রাত ১২টা ৫৫ মিনিট। একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘সিনেমা শেষ। সবাই চলো। ভাই বের হয়ে গেছে।’ পরে প্রায় অর্ধেক নেতা-কর্মী সরে যান।
রাত ১টা ১২ মিনিটে অলোকার মোড়ের দিক থেকে একসঙ্গে হর্ন বাজাতে বাজাতে প্রায় ১০০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর আসে। ভবনটির সামনে তিনটি প্রাইভেট কারও এসে থামে। নেতা-কর্মীরা আহত অবস্থায় পড়ে থাকা মীর তারেককে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু যে ভবনের ছাদে তিনি লাফ দিয়ে পড়েছেন সেটির কলাপসিবল গেটের চাবি নেই। ১টা ২১ মিনিটে একজন ছোট একটা হাতুড়ি আনেন। সেটির আঘাতে তালা ভাঙছে না। দুই মিনিট পর আরেকজন আনেন শাবল। ভবনটির নিচতলায় দুটি সিসি ক্যামেরা ছিল। একজন একটি সিসি ক্যামেরার সামনে সাদা কাপড় গুঁজে দেন। আরেকজন আরেকটি ক্যামেরার সামনে একটি হেলমেট ধরে থাকেন। অনেকক্ষণ হেলমেট ধরে থাকার পরে ওই ক্যামেরার মুখটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পর তালা ভেঙে যায়।
সাংবাদিকেরা প্রস্তুত—মীর তারেক বের হলে ছবি তুলবেন। নেতা-কর্মীদের কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে ক্যামেরা চালু না করার অনুরোধ করতে থাকলেন। ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি’ বলে কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে নেতা-কর্মীদের স্বর বদলে যায়। ফোন বের করলেই ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন। একজন সাংবাদিকদের গালি দিয়ে বললেন, ‘পিটিয়ে তাড়িয়ে দে না।’ ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর দুটি ইটের টুকরা এনে রাস্তায় রাখলেন। ক্যামেরা চালু হলেই ইট ছোড়া হবে ঘোষণা দিলেন।
রাত ১টা ৩৯ মিনিটে দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে হেলমেট পরা অবস্থায় একজন বের হলেন। তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত দক্ষিণ দিকে চলে গেল। এরপর দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে হেলমেট পরে এলেন মীর তারেক। তাঁকেও একটি মোটরসাইকেলে তোলা হলো। এরপর একই মোটরসাইকেলে আরেকজন চড়লেন। দ্রুতই মোটরসাইকেলটি উত্তর দিকে চলে গেল। নেতা-কর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু নিলেন। ভবনটি থেকে আহত অবস্থায় বের করা অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২১ জুন নগরের শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ভাড়া বাসায় গুলিবিদ্ধ হন ফয়সাল বাঁধন (৩০) নামের এক যুবক। তিনি সব সময় মীর তারেকের সঙ্গেই থাকেন। সেদিন পুলিশ বাড়িটি থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, গুলির খোসা, ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ছাদে আটকে থাকা অবস্থায় তারেক যে লাইভ করছিলেন, তা দেখে বোঝা গেছে, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গিয়েছিল।
তারেকের সঙ্গে থাকা ছাত্রদল নেতা আসাস লাইভে বলেন, ‘এখানে আমাদের জিজ্ঞেস করছে বিস্ফোরক কার, অস্ত্র কার? বাঁধন ভাই কোথায় থেকে কী নিয়ে আসছে আমি জানি?’ মীর তারেক পাশ থেকে বলেন, ‘কোথায় বিস্ফোরক? কার বিস্ফোরক?’ আসাস ওই লাইভে আরও দেখান, ডিবি পুলিশ আসার আগেই বাঁধনের স্ত্রী সোনিয়া শেখের সঙ্গে মেসেঞ্জারে তাঁর কথা হয়েছে। ওই কথোপকথনে সোনিয়া লিখেছেন, ‘এত বেশি বাড়িস না। তুই ওর পেছনে কীভাবে লেগেছিলি সবাই জানে। গিভ মি সাম টাইম অ্যান্ড আই উইল ক্যালকুলেট।’
ছাদ থেকে ফেসবুক লাইভে মীর তারেক দেখান, তাঁর ডান পা ভেঙে গেছে। তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। ভবনের সামনে থেকে পুলিশ সরে যাওয়ার আগমুহূর্তে তারেকের ফেসবুক লাইভ বন্ধ হয় এবং আইডি থেকে ওই ভিডিও ডিলিট করে দেওয়া হয়।
বাঁধন গুলিবিদ্ধ হওয়ার জেরেই মীর তারেককে গ্রেপ্তারে অভিযান কি না, জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘না, না। সেটা না। পুলিশ আসলে অন্য এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল। ওই আসামি সেখানে ছিল না। কিন্তু সেখানে থাকা এক নেতা মনে করেছিলেন তাঁকে গ্রেপ্তারের অভিযান। এটা আসলে ভুল-বোঝাবুঝি। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ চলে এসেছে।’
এদিকে বাঁধন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মীর তারেককে গ্রেপ্তার করা না হলেও তিনি অন্য একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গত বছরের ৭ মার্চ নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ভেতর ছুরিকাঘাতে নিহত হন গোলাম হোসেন নামের এক রিকশাচালক। এ ঘটনায় গোলামের স্ত্রী পরিবানু বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ১৩ মার্চ বোয়ালিয়া থানায় এ মামলা করা হয়। মামলা নম্বর-১৩।
এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মীর তারেক। এ ছাড়া নগরের শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদারও মামলার আসামি। থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কোনো আসামি আদালতে আত্মসমর্পণও করেননি। পুলিশের চোখে তাঁরা পলাতক।
গতকাল রাতে মীর তারেককে উদ্ধার করতে এসেছিলেন পুলিশের চোখে আরেক ‘পলাতক’ আসামি সুমন সরদার। আহত মীর তারেককে নিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলের মাঝে বসানো হয়েছিল। আর সুমন সরদার বসেছিলেন পেছনে।
রাতে আসামি ধরা নিয়ে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ হলেও হত্যা মামলায় কেন মীর তারেককে গ্রেপ্তার করা হলো না, জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, এটা অনেক পুরোনো মামলা। কী অবস্থায় মামলাটা আছে, সেটা না দেখে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।
কথা বলার জন্য আজ রোববার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মীর তারেকের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। রাতে পুলিশের এই অভিযান নিয়ে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের ডাকলে আমরা যেতাম। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি, আমরা কোথাও পালাইনি। কেন পালাব? যে অন্যায় আমরা করিনি, কেন আসবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমি মানি না এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

নরসিংদীতে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মাদক। জেলার ছয়টি উপজেলার পাশাপাশি চরাঞ্চলগুলোতেও ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের অবাধ বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে...
৪ মিনিট আগে
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নান্দাইলের প্রবাসী রুহুল আমিনের মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে আনা হয়েছে। রোববার সকালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বীর কামটখালী গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
১৩ মিনিট আগে
নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রোববার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, মধ্যরাত পর্যন্ত পানি আরও ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে। ডিমলা, জলঢাকা ও চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
১৫ মিনিট আগে
রাজশাহীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন-রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সজিব আলী (২৪) ও বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মো. রাহাত (২০)। রোববার (২৮ জুন) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২৪ মিনিট আগে