Ajker Patrika

কৃষকের সার কেনার হিসাব থাকবে অনলাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১২
কৃষকের সার কেনার হিসাব থাকবে অনলাইনে
পবা সার ডটকম। ছবি: স্ক্রিন শর্ট

চাহিদামতো সার না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকের। অথচ সরকারি হিসাব বলছে, সারের সংকট নেই। এই অবস্থায় সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত সার কেনা ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। এখন এক ক্লিকেই দেখা যাচ্ছে, কোন ডিলারের কাছে কী পরিমাণ সার আছে। থাকছে কৃষকের সার নেওয়ার হিসাবও।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নানসহ সার ডিলার ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

‘পবা সার ডটকম’-এ উপজেলার সব ডিলারের সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য দেখা যাচ্ছে। কৃষক জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সার কিনলে তাঁর কেনার তথ্য এতে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে তিনি ডিলারের কাছ থেকে কত সার কিনেছেন, তা জানা যাবে। জমির পরিমাণ ও ফসলের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি, জিপসামসহ বিভিন্ন সারের পরিমাণ দিলে নির্ধারিত মূল্যে মোট দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব হবে এই ওয়েবসাইটে। ডিলারের মজুত ও বিক্রির তথ্য প্রশাসনের ড্যাশবোর্ডে থাকায় মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘সার নেই’ বলা হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা যাবে। এ ব্যবস্থায় চার স্তরের নজরদারি রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ কোনো লগইন ছাড়াই ডিলারভিত্তিক সার মজুত ও দাম দেখতে পারবেন। এ ছাড়া ডিলারদের বিক্রি ও মজুতের তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত হবে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ডিলারের মজুত, মূল্যতালিকা, বিক্রয় মূল্য, রসিদ, লাইসেন্স ও বরাদ্দপত্র যাচাই করবেন। তাঁদের পরিদর্শনের স্থান জিপিএসের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকবে। কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কাজ তদারকি করবেন। সর্বশেষে উপজেলা প্রশাসন কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।

ওয়েবসাইটে কৃষকদের অভিযোগ জানানোর সুযোগও রয়েছে। সার না দেওয়া, ওজনে কম দেওয়া, রসিদ না দেওয়া বা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ছবি সংযুক্ত করা যাবে। ইউনিয়নভিত্তিক কোন ডিলারের কাছে কত সার মজুত রয়েছে, সেটিও দেখা যাবে।

পবার ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, এটি বর্তমানে পাইলট ভিত্তিতে চালু হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত সার থাকার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পবার উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে জেলার অন্য উপজেলায়ও এটি চালু করা হবে।

এ সেবার উদ্বোধনের পর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, শুধু ডিলারের মজুত নয়, কোন এলাকায় কত কৃষক, তাঁদের জমির পরিমাণ, ফসল ও প্রয়োজনীয় সারের তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা দরকার। এতে আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমে আগেই এলাকার সারের চাহিদা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত