Ajker Patrika

ওবায়দুর টাকার লোভে মেয়েকে নিয়ে খেলেছে, রিমান্ডে নিলে সত্য বেরিয়ে আসবে: মরিয়মের বাবা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২০
ওবায়দুর টাকার লোভে মেয়েকে নিয়ে খেলেছে, রিমান্ডে নিলে সত্য বেরিয়ে আসবে: মরিয়মের বাবা
মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, মেয়ের মৃত্যুর জন্য মামা ওবায়দুর রহমান দায়ী। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে এই ঘটনার সব সত্য বেরিয়ে আসবে।

ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওর (ওবায়দুর) একমাত্র লোভ হলো টাকা। আমার মেয়েকে নিয়ে খেলেছে। ওকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে মূল সত্য বেরিয়ে আসবে।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত ১৩ জুলাই মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ওবায়দুর রহমান তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর থেকেই আমার মেয়ে আমাদের দেখে ভেউ ভেউ করে কাঁদত। ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হতো না। ও-ই তো শুরু করছে, ও-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে।’

গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের। তিনি সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানায় ডিএমপির তেজগাঁওয়ের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলাটি বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

মাসুম বিল্লাহর অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই মরিয়মকে ঘরবন্দি করে রাখার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তিনি মেয়েকে তাঁর আপন মামা ওবায়দুর রহমানের কাছে যেতে দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে ওবায়দুরকে বিশ্বাস করলেও সেই সুযোগ নিয়ে তিনি মরিয়মের ভিডিও ধারণ করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ফোনকল করে ওবায়দুর তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হতো না। ও-ই তো শুরু করছে, ও-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে।’

মাসুম বিল্লাহর দাবি, টাকা না দেওয়ায় ২০ জুলাই রাতে মরিয়ম ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে তাঁর মেয়েকে ও পরিবারকে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়ের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়ম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে লজ্জায় ঠিকমতো কথা বলত না। তাঁকে দেখলে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ত।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সারাক্ষণ, আমার সঙ্গে মেয়ে লজ্জায় কথাই বলত না। আমার সঙ্গে, ওর মায়ের সঙ্গে লজ্জায় কথাই বলত না। আমি গেলে আমার পা জড়ায় ধরে ভেউ ভেউ করে কাঁদত।’

ওবায়দুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিশ্বাস করার কথা উল্লেখ করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওর মামা বলে ওরে বিশ্বাস করছিলাম। একটা মানুষ ঘরবন্দি থাকতে পারবে না—এই বিশ্বাস করে ওর কাছে মেয়েটারে দিছিলাম বাইরে বের হতে। কিন্তু সে ভিডিও করে এভাবে ছড়িয়ে দেবে, জানলে জীবনেও দিতাম না।’

মেয়ের মামার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওর একমাত্র লোভ হলো টাকা। ওই ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করবে, ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করে টাকা হাতাবে।’

মাসুম বিল্লাহ আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই ওবায়দুরের ফোনকলের রেকর্ড যাচাই করলে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়টি পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘ওর কল রেকর্ড এখনো চেক করেননি। ডিবি এখনো চেক করলে পাবে।’

মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, ‘ইজ্জতের ভয়ে ওরে কোনো কিছুই বলিনি, ওর নামে একটা মামলাও করিনি। যখন টাকা দিলাম না, যখন সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দিলাম, তখনই ও এই ভিডিওগুলো সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিল।’

মামাকে বিশ্বাস করে মেয়েটি প্রতারিত হয়েছে দাবি করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মেয়েটির বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর ছিল। কোনো ভুল করলেও একজন মামার উচিত ছিল তাকে রক্ষা করা, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নয়।

শেষে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি তো সেই প্রথম দিন থেকে চাই যে, ওরে ফাঁসি দেয় না কেন? ওরে ধরে ফাঁসি দেয় না কেন? ওরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না কেন!’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত