Ajker Patrika

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: উধাও ডাকঘরের লেটার রাইটার

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: উধাও ডাকঘরের লেটার রাইটার
রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধা। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার (৩০) বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়েই তিনি আত্মগোপনে গেছেন। এ ঘটনায় ডাক বিভাগ চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ডাকঘর সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে শিহাব মৃধা মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার কথা বলে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেন। পরে গ্রাহকেরা পাসবই নিতে এসে জানতে পারেন, তাদের নামে কোনো হিসাবই খোলা হয়নি। এতে বহু পরিবার তাঁদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছেন।

ভুক্তভোগী মোনালিসা ইমাম বলেন, ‘আমি দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে মেয়াদি হিসাব খুলতে গিয়েছিলাম। কয়েক দিন পর পাসবই নিতে এসে জানতে পারি, আমার নামে কোনো হিসাবই খোলা হয়নি। তখন বুঝতে পারি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।’

আরেক ভুক্তভোগী আফজাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রেখেই টাকা জমা দিয়েছিলাম। এখন শুনছি আমাদের নামে কোনো হিসাবই নেই। জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আমরা দিশেহারা। দ্রুত টাকা ফেরত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।’

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেলকে। সদস্যসচিব রয়েছেন খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট (তদন্ত)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন দক্ষিণাঞ্চল, খুলনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) এবং কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল।

কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের বর্তমান পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমি ৬ জুলাই যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। শিহাব সরকারি কর্মচারী নন; তিনি লেটার রাইটার হিসেবে কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডাকঘরের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ একার পক্ষে আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দ্রুত ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত