Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­
চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘ আড়াই বছর পর চুয়াডাঙ্গার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোক্তাগীর আলম এ রায় দেন। এ ছাড়া আসামি আবুল হোসেনকে দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মরিয়ম খাতুন জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ছাত্রী ও ইকবাল হোসেনের মেয়ে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন ও আছিয়া খাতুন (৮) প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) ও সিনহা খাতুনকে নিয়ে স্থানীয় হাঁড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে আরও শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি ভুট্টাখেতের দিকে নিয়ে যান এবং বাকিদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পর ওই ব্যক্তি একা ফিরে এলে আছিয়া তার বোনের কথা জানতে চায়। তখন লোকটি জানায়, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। এই বলে সে দ্রুত ভ্যান নিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি শুনে সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠের দিকে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টাখেতে মরিয়মের গলাকাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

​এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের পিতা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

​আদালত সূত্র জানা যায়, মামলা চলাকালীন আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া তাঁর ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। চার্জশিট ও ডিএনএ রিপোর্টসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আজ সোমবার এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম এম শাহজাহান মুকুল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জীবননগর থানার গয়েসপুর গ্রামের মরিয়ম হত্যা মামলার আজকে রায়ের দিন ধার্য ছিল। একমাত্র আসামি আবুল হোসেন আটক হওয়ার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বমোট ৩১ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের সাক্ষ্য, আসামির জবানবন্দি এবং ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট— সব মিলিয়ে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড দেন। এই রায়ে বাদী তথা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে আমি মনে করি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত