Ajker Patrika

দৌলতদিয়ার পদ্মার তীর: ভাঙনের ঝুঁকিতে ফেরিঘাট

  • ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় নদীর তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
  • ফেরিঘাট ছাড়া আশপাশের বসতবাড়ি ও স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ঘাটসংলগ্ন প্রায় ৫০ মিটার এলাকা।
অনিক সিকদার, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) 
দৌলতদিয়ার পদ্মার তীর: ভাঙনের ঝুঁকিতে ফেরিঘাট
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। আজকের পত্রিকা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, স্থাপনা ও স্থানীয় জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কারণে নদীপারের বাসিন্দারা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভাঙনে কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ঘাটসংলগ্ন প্রায় ৫০ মিটার এলাকা। এ ছাড়া দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার অংশ বর্তমানে ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে মজিদ শেখের পাড়া, সিদ্দিক কাজীপাড়াসহ আশপাশের শতাধিক পরিবার।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি। এতে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। অনেক পরিবার আগেও দুই থেকে তিনবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের বাড়ি নদীর খুব কাছেই। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নদীশাসনের ব্যবস্থা করে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক।’

আরেক বাসিন্দা মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ছে না। সব সময় ভয় হয়, কখন আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে চলে যায়।’

স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

জানা গেছে, দৌলতদিয়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌযোগাযোগ কেন্দ্র। বর্তমানে সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে মাত্র তিনটি সচল রয়েছে। অতীতের ভাঙনে কয়েকটি ঘাট বিলীন ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নতুন করে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ফেরিঘাটের কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ এলাকা। প্রায় প্রতিবছরই এখানে নদীভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পেছন দিকেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি। বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ নেবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁরা দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটসহ গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছেন। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত