১৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি, মৃত আহ্বায়কের কমিটিতেই চলছে নেছারাবাদ যুবদল

একজন আহ্বায়ক মারা গেছেন তিন বছর আগে। যুগ্ম আহ্বায়কদের কেউ যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে, কেউ জাতীয় পার্টিতে। আবার কেউ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে হারিয়েছেন যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। অথচ সেই পুরোনো আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম।
২০১০ সালে ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৬ বছর। এত দীর্ঘ সময়েও গঠন করা হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ফলে নেতৃত্ব সংকট, সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক স্থবিরতায় ঝিমিয়ে পড়েছে একসময়ের সক্রিয় এই সংগঠন।
দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। তৈরি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব, মূল্যায়ন পাচ্ছেন না পদপ্রত্যাশী তরুণেরা। তাঁদের অভিযোগ, সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে যুবদলকে শক্তিশালী করতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে মো. আকরামুল ইসলাম বাবুলকে আহ্বায়ক করে ৪১ সদস্যের নেছারাবাদ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে মো. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, মিজানুর রহমান চান, আতিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন তালুকদার, জাহিদ হোসেন মাস্টার, মাসুদ রানা পলাশ, শহিদুল ইসলাম, লোকমান হাকিম, আজহারুল ইসলাম টুটুল, হায়দার আলী ও মো. জাহিদুল ইসলামসহ ১৩ জনকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর প্রায় ১৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।
এই দীর্ঘ সময়ে কমিটির নেতৃত্ব কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। আহ্বায়ক আকরামুল ইসলাম বাবুল মারা গেছেন তিন বছর আগে। ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়কের অধিকাংশই এখন আর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় নন। কেউ উপজেলা বা পৌর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন, কেউ যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টিতে। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করায় বর্তমানে যুবদলে ফিরতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য।
নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও যুবনেতা মো. আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। নতুন নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় যে যার মতো করে চলছে। এতে সংগঠনে বিশৃঙ্খলাও দেখা দিচ্ছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দলের কার্যকর ভূমিকা পালনে যুবদলের গুরুত্ব অপরিহার্য। তাই দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আহ্বায়ক কমিটির বয়স প্রায় দেড় যুগ। আহ্বায়ক আকরামুল ইসলাম বাবুল মারা গেছেন তিন বছর আগে। যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চান জাতীয় পার্টিতে গেছেন। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। এখন যুবদলের হাল ধরে আছি একমাত্র আমি। কমিটির অনেকেই এখন আর যুবক নেই, কেউ কেউ প্রবীণ বয়সে পৌঁছেছেন।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি নেই। জাতীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে যুবদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন জরুরি।
প্রায় ১৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেছারাবাদ উপজেলা যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পুরোনো কমিটির নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বের ভার সংগঠনটি আর কত দিন বহন করবে—এমন প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠন পুনর্গঠনে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা কবে উদ্যোগ নেবেন, এখন সেই অপেক্ষায় পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের কর্মীরা।









