Ajker Patrika

শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে স্কুলে হামলা, নারী শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে মারধর

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ২১: ২৬
শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে স্কুলে হামলা, নারী শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে মারধর
হামলায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেল পাড়াপ্রতিবেশিরা শিক্ষিকাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে ধমক দিয়ে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় সহকারী নারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীকে (২৫) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করা হয়েছে। আহত শিক্ষককে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামে ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি কিন্ডারগার্টেনে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল (৫৫) ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে ঢুকে হামলা চালান। এতে নারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী, স্কুলের অধ্যক্ষের মা ও বোন আহত হন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে থানায় জানানো হয়েছে।

স্কুলশিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে নিয়মিত না আসা ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে শাসন করেন। এতে শিক্ষার্থী অপমান বোধ করে বাড়ি ফিরে যায়।

এর কিছুক্ষণ পর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শিক্ষার্থীর মামা মো. উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন স্কুলে এসে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে হামলাকারীরা স্কুলের পাশেই থাকা অধ্যক্ষের মা ও বোনকে হুমকি দেন এবং কিলঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী এগিয়ে এলে উজ্জ্বল মালের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্কুলশিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা জানান, স্কুল নির্মাণের পর থেকেই উজ্জ্বল মাল নানাভাবে তাঁদের বিরক্ত করছিলেন। কোনো কিছু হলেই তিনি স্কুলের ওপর চড়াও হতেন। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে তাঁর ভাগনি স্কুলে নিয়মিত না আসায় আমি তাকে ধমক দিয়ে শাসন করি এবং নিয়মিত স্কুলে আসতে বলি। কিন্তু তাঁরা বিষয়টি না বুঝেই স্কুলে হামলা চালিয়ে স্কুলশিক্ষকসহ আরও দুজনকে আহত করেছেন।' ঘটনার সময় স্কুলে না থাকায় তিনি হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান। এই ঘটনায় তিনি ও স্কুলশিক্ষকেরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, হামলায় আহত নারী শিক্ষক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে উজ্জ্বল মালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে স্কুলে না আসায় শাসন করার জেরে হামলা ও স্কুলশিক্ষককে মারা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

অভিযুক্ত উজ্জ্বল মালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য এলাকায় যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত