৩৫৮ কোটির পণ্যবাহী লাগেজ ভ্যানে চড়বে যাত্রী

স্বল্প খরচে কৃষিসহ নানান পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যে ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যুক্ত করা হয়েছিল ১২৫টি লাগেজ ভ্যান। তবে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মেলেনি আশানুরূপ সাড়া। ফলে সেগুলো রেলের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। অবশেষে সেই কাঁটা সারাতে লাগেজ ভ্যানগুলোকে যাত্রীবাহী কোচে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, কম সময়ে স্বল্প খরচে কৃষিসহ নানান পণ্য পরিবহনের জন্য রেলওয়েতে লাগেজ ভ্যান কেনার জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন (রোলিং স্টক সংগ্রহ) প্রকল্পের আওতায় চীন থেকে আমদানি করা হয় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান। এর মধ্যে ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ।
এসব লাগেজ ভ্যান রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বহরে যুক্ত করা হয়। ৮ থেকে ৯ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যানের দাম পড়ে ৩ কোটি ৫ লাখ এবং প্রতিটি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যানের দাম ধরা হয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ২৮টি ফ্রিজিং লাগেজ। এর আগে পুরোনো লাগেজ ভ্যান ছিল ৫০টি, যার ১৮টি সচল ছিল।
সূত্রটি আরও জানায়, তিন বছর আগে ট্রেনগুলোতে লাগেজ ভ্যান যুক্ত করা হলেও কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। নতুন এসব লাগেজ ভ্যান যুক্ত হওয়ার আগে মাসে গড়ে পার্সেল পরিবহনে রেলের আয় হতো ৭২ লাখ টাকা। লাগেজ ভ্যানগুলো যুক্ত হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ লাখ টাকায়। অর্থাৎ রেলওয়ে ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় করে গড়ে প্রতি মাসে আয় করছে মাত্র ৭ লাখ টাকা।
লাগেজ ভ্যানগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকার কারণ খতিয়ে দেখতে গত বছরের ৫ জানুয়ারি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, রেলওয়ের ১২৫টি লাগেজ ভ্যানের মাত্র ৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। অব্যবহৃত থাকছে বাকি ৯৫ শতাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে লাগেজ ভ্যানগুলোকে যাত্রীবাহী কোচে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেন, গত ১৮ অক্টোবর রেলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় লাগেজ ভ্যানগুলো যাত্রী পরিবহনে ব্যবহারের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কীভাবে বগিগুলো রূপান্তর করা যেতে পারে, তাও দেখানো হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৈয়দপুর রেল কারখানার এক প্রকৌশলী বলেন, কারখানায় বর্তমানে যন্ত্রাংশের তীব্র সংকট। এর জন্য অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। তাই লাগেজ ভ্যানগুলো যাত্রী পরিবহনের জন্য কোচে রূপান্তর করাটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা হবে আরেকটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।









