কীটনাশক চুরি: সৈয়দপুরের ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সিলমোহরকৃত গুদাম থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কীটনাশক চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপরাধে সাতজনের বিরুদ্ধে নীলফামারীর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি। বিচারিক কমিটির নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বসুনিয়া এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম রেজা, কীটনাশক ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন, তামজিদ হোসেন, সৈয়দপুর থানার উপপরিদর্শক ঋষিকেশ, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও গুদামমালিক সাঈদ আহমেদ সানি।
আজ বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য থাকলে তাঁরা সময়ের আবেদন দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, ৯৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্রিফার ৫জি (কার্বোফুরান জাতীয় দানাদার কীটনাশক) জব্দ করে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর সাঈদ আহমেদ সানির গুদামঘরে রাখা হয়। আর এসব মালামালের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে। সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেনের গুদাম থেকে ২০২৪ সালের ২৫ জুন ওই নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যাকেটজাত কীটনাশক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। জেল থেকে বের হয়ে তিনি পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেন। ঘটনা ফাঁস হলে জব্দকৃত চুরি হওয়া মালামাল বিষয়ে নীলফামারীর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এর আদালতে মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ৪/২০২৫।
এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বসুনিয়াকে। তিনি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঘটনায় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় তা অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। যাতে মামলার বিষয়ে কোনো ক্ষতি না হয়।
আজ বুধবার অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তাঁরা আদালতে হাজির হননি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম রেজা আজকের পত্রিকাকে জানান, ‘আমি সৈয়দপুর থানায় যোগদানের প্রায় দুই বছর আগে ওইসব মালামাল জব্দ করা হয়। তারপরেও আমাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি।’









