Ajker Patrika

১ কেজি লবণ, ১৫০ গ্রাম সোডা খেয়ে যাকে-তাকে কামড়াচ্ছেন ৭৫ বয়সী বৃদ্ধ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২: ০৪
১ কেজি লবণ, ১৫০ গ্রাম সোডা খেয়ে যাকে-তাকে কামড়াচ্ছেন ৭৫ বয়সী বৃদ্ধ
মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লক্ষণ চন্দ্র পাল। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ৫০০ টাকার বাজি ধরে এক কেজি লবণ ও প্রায় ১৫০ গ্রাম সোডা খাওয়ার পর অস্বাভাবিক আচরণ করছেন লক্ষণ চন্দ্র পাল (৭৫) নামের এক ব্যক্তি। লবণ ও সোডা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তিনি যাকে সামনে পাচ্ছেন, তাকেই মারধর ও কামড় দিচ্ছেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও চিনতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত শুক্রবার সকালে খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর (পালপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লক্ষণ চন্দ্র পাল ওই গ্রামের বাসিন্দা। আজ রোববার বিকেলে তাঁর ছেলে সুজিত চন্দ্র পাল জানান, তাঁর বাবা সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। প্রতিবেশী মিল্টন পাল ও পিয়াস পাল তাঁকে এক কেজি লবণ ও প্রায় ১৫০ গ্রাম সোডা খেতে পারলে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে তাঁর বাবা একটি জগে পানি নিয়ে লবণ ও সোডা মিশিয়ে পান করেন।

সুজিত চন্দ্র পাল আরও জানান, এসব খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁর বাবা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। হাতের কাছে যাকে পাচ্ছিলেন, তাকেই মারধর ও কামড় দিচ্ছিলেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও চিনতে পারছিলেন না। তাঁকেও মারধর ও কামড় দিয়েছেন।

সুজিত চন্দ্র পাল জানান, গত শুক্রবার বিকেলে বাবাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মমেক হাসপাতালে পাঠান। ওই দিন রাতেই তাঁকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অক্সিজেন দেওয়া হয়। এখনো তিনি নিজে থেকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না। চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সেখানে শয্যা খালি না থাকায় ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। শয্যার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আজ মাঝেমধ্যে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন।

সুজিত চন্দ্র পালের অভিযোগ, তাঁর বাবার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে লবণ ও সোডা খাওয়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিল্টন পাল ও পিয়াস পালের বিরুদ্ধে আগামীকাল সোমবার থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে লক্ষণ পালকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ ও সোডা খাওয়ার কারণে তাঁর মস্তিষ্কে প্রভাব পড়েছে। ফলে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মেন্দিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোকন মিয়া জানান, তিনি এলাকায় ছিলেন না। পরে এসে ঘটনাটি শুনেছেন। যেসব জিনিস খেলে ক্ষতি হতে পারে, সেগুলো নিয়ে বাজি ধরা ঠিক নয়। লক্ষণ পাল মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এ কামনা করেন তিনি।

মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হাকিম জানান, লক্ষণ পাল সহজ-সরল মানুষ। বাজি ধরে তিনি লবণ ও সোডা খেয়েছেন বলে শুনেছেন। যাঁরা তাঁকে এসব খাওয়ার জন্য বাজি ধরেছিলেন, তাঁরাও প্রতিবেশী।

তবে এ বিষয়ে জানতে মিল্টন পাল ও পিয়াস পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন জানান, এমন ঘটনা তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত