কিশোরগঞ্জ শিক্ষা অফিস থেকে ২৪ শিক্ষকের সার্ভিস বই উধাও

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২৪ জন শিক্ষকের সার্ভিস বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত দুই মাস ধরে এসব বই না পাওয়ায় বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ও চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকেরা। এ ঘটনায় শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা।
জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে নিজেদের সার্ভিস বই খুঁজে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস বই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে চাকরিতে যোগদানের সময় থেকে অবসরের আগপর্যন্ত ব্যক্তিগত, পেশাগত ও আর্থিক সুবিধাসংক্রান্ত তথ্য ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। কর্তৃপক্ষের বাইরে অন্য কারও এই বই ব্যবহার বা সংরক্ষণের সুযোগ নেই।
গদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা খাতুন বলেন, ‘আজ জানতে পারি আমার সার্ভিস বই পাওয়া যাচ্ছে না। চাকরির বিভিন্ন কাজে এই বই প্রয়োজন হয়। এখন শিক্ষা অফিস কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার বিষয়।’
কেশবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাদিয়া ফারজানা বলেন, ‘২০২৬ সালে যাঁরা একসঙ্গে চাকরিতে যোগ দিয়েছি, তাঁদের সবার সার্ভিস বই একসঙ্গে সংরক্ষিত আছে বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন সেগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সার্ভিস বই সংরক্ষণের দায়িত্ব শিক্ষা অফিসের। নিখোঁজ বইগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে যোগদান করা শিক্ষকদের বইও রয়েছে।’
পুটিমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলিমুজ্জান বলেন, শিক্ষকদের সার্ভিস বই সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব শিক্ষা অফিসের। অফিসে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরাই বলতে পারবেন বইগুলো কীভাবে হারিয়ে গেল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, সার্ভিস বইগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বইগুলো খুঁজতে কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সেগুলো খোঁজা হয়েছে। তিনি জানান, হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার কাছে আলমারির চাবি ছিল। পরে তিনি বদলি হয়ে জেলা অফিসে চলে যান।
তবে হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা জানান, গত ৩০ আগস্ট কিশোরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বদলি হয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেওয়ার সময় তিনি চাবিসহ সবকিছু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। চাবিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাঁর ভাষ্য, শরিফ নামের একজন শিক্ষক বইগুলো বাসায় নিয়ে গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’









