নীলফামারীতে খাঁচাবন্দী ২২ পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত

নীলফামারী সদর উপজেলার ঢেলাপীর হাটে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ২২টি দেশি পাখি উদ্ধার করেছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ। পরে পাখিগুলো খাঁচামুক্ত করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় পাখি রাখার চারটি লোহার খাঁচাও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার করা পাখির মধ্যে রয়েছে ১০টি টিয়া, পাঁচটি পাতি সরালি, ছয়টি টিলা ঘুঘু ও একটি কালিম পাখি। পাখিগুলো অবমুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন্য প্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এতে নীলফামারীর পাখি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা সার্বিক সহযোগিতা করে।
বন্য প্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘বন্য প্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাখির স্বাভাবিক আবাসস্থল প্রকৃতি, খাঁচা নয়। বন্য পাখি ধরা, খাঁচায় বন্দী করে রাখা কিংবা কেনাবেচা জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। আমরা খবর পেয়েছিলাম, ঢেলাপীর হাটে দেশি পাখি কেনাবেচা হচ্ছে। শুক্রবার সরেজমিন অভিযান চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
পাখি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কিছু অসাধু ব্যক্তি বন্য পাখি ধরে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এতে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই, মানুষ পাখি শিকার ও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকুক। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমে আমাদের সংগঠনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন্য প্রাণী অনুমতি ছাড়া ধরা, কেনাবেচা ও অবৈধভাবে নিজের কাছে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বন্য পাখি শিকার, কেনাবেচা ও খাঁচায় বন্দী করে রাখা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।









