Ajker Patrika

নেত্রকোনায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাতের টানে উঠে যাচ্ছে পিচ

সাইফুল আরিফ জুয়েল, নেত্রকোনা 
নেত্রকোনায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাতের টানে উঠে যাচ্ছে পিচ
হাতে টেনে সড়কের পিচ তুলছেন এক যুবক। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত সড়কটিতে পিচ ঢালাই হয়েছে মাত্র পাঁচ দিন আগে। এরই মধ্যে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ। এতে নিম্নমানের সংস্কার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গতকাল শনিবার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, এক যুবক হাত দিয়ে অনায়াসে তুলে ফেলছেন সড়কের পিচ। এই অবস্থা দেখে আশপাশের অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। উপস্থিত লোকজন নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সম্প্রতি সংস্কারকাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী। তবে কাজ শেষ না হতেই দেখা দিয়েছে অনিয়ম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান, দায়সারাভাবে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। এত নিম্নমানের কাজ আগে কখনো হয়নি। সড়কটি বেশি দিন টেকসই হবে না বলে জানান তাঁরা। পাশাপাশি এমন নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সংস্কার করছে মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কার্যমেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্ট মাসে। কিন্তু চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হাটবাজার—সব জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আমরা এত দিন অবহেলিত ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন। মাত্র পাঁচ দিন হলো পিচ ঢালাই করেছে, এখন হাতে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে।’

তাজ্জত আলী নামের অপর একজন বলেন, ‘নামমাত্র বিটুমিন দিয়েই সংস্কারকাজ সেরেছে ঠিকাদার। এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।’

চারিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এমন রাস্তা চাই না। এই রাস্তা এক মাসও টিকবে না।’

সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন নিম্নমানের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, ‘আমাদের এই রাস্তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়েছে। এই রাস্তায় তো সব সময় বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যে অবস্থায় রাস্তা হচ্ছে, তাতে কয়দিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ কাজের মান যদি এমন হয়, তবে তা শুধু টাকার অপচয় হবে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কার্পেটিং কাজের শুরুর পরদিনই সমস্যা দেখে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে যথাযথভাবে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার জন্য।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, ‘রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের নজরদারি থাকবে। কোনোভাবেই অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। ‘একটা মিটিংয়ে আছি’ বলে সংযোগ কেটে দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত