Ajker Patrika

ধর্ষণ ও সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার: ১৩ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
ধর্ষণ ও সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার: ১৩ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন
আসামি হেলাল উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় হেলাল উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি হেলাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নুরুল কবীর রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার এক গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ধর্ষণ করেন হেলাল উদ্দিন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।

ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিসে বিষয়টির মীমাংসা ও তাঁদের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল উদ্দিন ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন। পরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিলে সন্তানের পিতৃত্বও অস্বীকার করেন তিনি।

এ ঘটনায় প্রথমে বারহাট্টা থানায় মামলা হয়। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।

পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটির পিতা হেলাল উদ্দিন।

পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে। ফলে শিশুটি হেলাল উদ্দিনের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য আইনগত অধিকারের দাবিদার হবে।

প্রসিকিউটর আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি, বরং ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে একটি শিশু তার পিতৃপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি অধিকার পেয়েছে। এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত