Ajker Patrika

নেত্রকোনায় এনসিপি নেতাকে মারধরের ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২২: ২৫
নেত্রকোনায় এনসিপি নেতাকে মারধরের ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
সোহাগ মিয়া প্রীতমের ওপর হামলার প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক ও নেত্রকোনা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া প্রীতমের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে হামলার প্রতিবাদে শহরের মোক্তারপাড়ায় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির নেতা ও নেত্রকোনা পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন খানের (রনি) নির্দেশে তাঁর চাচাতো ভাই, জেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন খান চঞ্চলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মো. সোহাগ মিয়া প্রীতমের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মারধর করেন।

লিখিত অভিযোগে প্রীতম উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) নেত্রকোনা কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকটি পরিবারের ওপর গভীর রাতে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে ও তাদের আশ্বস্ত করতে তিনি গতকাল সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে এনসিপির পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, থানা থেকে বের হয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে পরিচিত এক নারী কর্মীর অনুরোধে তাঁর বাড়িতে গেলে বিএনপি নেতা আফাজ উদ্দিন খান চন্দন ও ইসলাম উদ্দিন খান চঞ্চলের নেতৃত্বে লাক মিয়া, মোবারক, রাব্বি, শিমুল, হিরা, হেনাসহ ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে প্রীতম মাথা, চোখ, ঘাড়, পিঠ ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।

বর্তমানে প্রীতম নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রীতম নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নেত্রকোনা পৌরসভার দলীয় মেয়র প্রার্থী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা ও নেত্রকোনা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন খান (রনি) অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আফাজ উদ্দিন খান চন্দন ও ইসলাম উদ্দিন খান চঞ্চল আমার চাচাতো ভাই। তারা জেলা বিএনপির সাবেক নেতা। চঞ্চলের একমাত্র ছেলে প্রায় দেড় মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর থেকে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং ঘর থেকে বের হয় না। তাকেও এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

রনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, প্রীতম মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। কিছু একটা ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনায় থাকতেই এই ঘটনা সাজানো হয়েছে। তিনি নেত্রকোনা বিএনপির প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধেই সমালোচনা করেন। সম্প্রতি শুনেছি তিনি এনসিপির পক্ষ থেকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আমি ২০২১ সালে মেয়র পদে নির্বাচন করেছি এবং ভবিষ্যতেও নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে আমাকে জড়িয়ে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।’

রনি দাবি করেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি ঘটনাটি ঘটার আগেই তাদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আমাকে জড়িয়ে প্রচারণার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—এমন স্ক্রিনশট ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এনসিপি জুলাই নিয়ে রাজনীতি করছে আর আমরা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করি।’

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এনসিপি নেতার ওপর হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত