Ajker Patrika

লালপুরে ইটভাটার জন্য মাটি কাটায় ঝুঁকিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি, পল্লী বিদ্যুতের মামলা

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ইটভাটার জন্য মাটি কাটায় ঝুঁকিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি, পল্লী বিদ্যুতের মামলা
ইটভাটার জন্য মাটি কাটায় ঝুঁকিতে বিদ্যুতের খুঁটি, বিপদের আশঙ্কায় ৬০০ গ্রাহক। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের বাকনাই গ্রামে একটি ইটভাটার জন্য ফসলি জমির মাটি কাটায় একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে যে কোনো সময় প্রায় ২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে লালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।

অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার বালিতিতা গ্রামের মৃত মারফত হালসানার ছেলে ইটভাটা মালিক মো. মাহাবুল হালসানা (৪৫) ও সাহাবুল হালসানা (৪০)।

থানা, এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের বাকনাই গ্রামের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছিল। একপর্যায়ে সেখানকার বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়া থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে খুঁটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে খুঁটিটি অল্প কিছু মাটির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসে এটি পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম মো. রেজাউল করিম বলেন, গতকাল রোববার বিলমাড়িয়া এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে যাওয়ার সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবীর হোসেন বিষয়টি দেখতে পান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ডিজিএম মো. রেজাউল করিম আরও বলেন, এর পরেই ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুঁটিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, পল্লী বিদ্যুতের করা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত মাহাবুল হালসানা ও সাহাবুল হালসানার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত সাত মাসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০টি অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইনে ২৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত