Ajker Patrika

লালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫, মোটরসাইকেলে আগুন

লালপুর ও বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫, মোটরসাইকেলে আগুন
নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আজ দুপুরে নাটোরের লালপুরের গোধড়া বাজার এলাকা-সংলগ্ন মহাসড়কে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের লালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোধড়া বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উত্তেজিত জনতা প্রায় এক ঘণ্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দোহার আলীর সঙ্গে লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারীর দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। কয়েক দিন আগে মজনুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

দোহার আলীর সমর্থক হাসান আলী নামের এক যুবক মজনু পাটোয়ারীকে নিয়ে ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করেন। গত বুধবার রাতে স্থানীয় বাজারে মজনু পাটোয়ারী এ নিয়ে হাসানকে জেরা করলে হাসান ভিডিওটির তথ্য মিথ্যা বলে জবাব দেন। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার হাসান লালপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, মজনু পাটোয়ারী জোর করে তাঁর কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে আসে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর হাসান আলী ও মজনু পাটোয়ারীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে বড়াইগ্রাম উপজেলার গুনাইহাটি গ্রামের রাশেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি আহত হন। তাঁর আহত হওয়ার খবর গুনাইহাটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ওই গ্রামের লোকজন এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা গাছের গুঁড়ি ফেলে নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মজনুর চাচাতো ভাই মোমিন পাটোয়ারীর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অবরোধে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে লালপুর থানা-পুলিশ, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বড়াইগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম এবং লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম সিরাজুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত